ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলার এসপি (SP) এবং কমিশনারদের (CP) একটি নির্দিষ্ট বয়ান বা ফরম্যাট পাঠিয়ে দ্রুত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছবি এআই
শেষ আপডেট: 16 March 2026 21:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় ভোট প্রস্তুতি বৈঠকে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিগত নির্বাচনগুলিতে যে যে এলাকায় অশান্তি হয়েছে, সেই সমস্ত এলাকায় থানার আইসি-ওসি, যাঁরাই দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা কী পদক্ষেপ করেছে? যদি না করে থাকে তাহলে ওই এলাকায় থাকা অফিসারদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে হবে (West Bengal Assembly Election 2026)।
সেই মতোই ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় যে সমস্ত এলাকায় অশান্তি বা ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই সময় সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বে কোন কোন পুলিশ আধিকারিক ছিলেন, তাঁদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে সেই কথা জানান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল।
নজরে ‘অশান্তি’র সময়কাল
কমিশন সূত্রে খবর, মূলত দু'টি নির্দিষ্ট সময়সীমার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে:
ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলার এসপি (SP) এবং কমিশনারদের (CP) একটি নির্দিষ্ট বয়ান বা ফরম্যাট পাঠিয়ে দ্রুত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট অফিসারের নাম, পদমর্যাদা এবং আইডির পাশাপাশি তিনি ঠিক কতদিন ওই থানায় কর্মরত ছিলেন, তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে।
কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত
সূত্রের খবর, এই তালিকা পাওয়ার পর যে সমস্ত আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বা যাঁদের এলাকায় বড়সড় অশান্তি ঘটেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে কমিশন। প্রয়োজনে আসন্ন নির্বাচনের কোনও রকম দায়িত্ব বা কার্যক্রম থেকেও তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
বদলি হওয়া আধিকারিকদের দিকেও নজর
এদিন সিইও মনোজ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নবান্নের পক্ষ থেকে যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছিল, তাঁদেরও একটি পৃথক তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। নবান্নের এই ‘তড়িঘড়ি’ বদলির নেপথ্যে কোনও নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তৎপরতা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বস্তুত, রবিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোটে কোনও ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। সব ভোট কর্মী (Poll Worker) ও পুলিশকর্মীদের নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে। যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে রদবদল ঘটিয়েছে। সেইসঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য বিতর্কিত আধিকারিকদের নির্বাচনের মূল দায়িত্ব থেকে দূরে রাখাই কমিশনের লক্ষ্য।