
শেষ আপডেট: 7 January 2024 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় দুপুরে ব্রিগেডে সিপিএমের যুব সংগঠনের সভা থেকে বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলকেই সমানভাবে বিঁধতে চাইলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়রা। এদিন প্রত্যাশা ছাপিয়ে ভিড় হয়েছে বিগ্রেডে। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ডিওয়াইএফআইয়ের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক আভাস রায়চৌধুরী বলেন, “বাংলায় ঘুরে ঘুরে এখন তৃণমূলকে চোর বলছেন শুভেন্দু অধিকারী। আরে তৃণমূল যে চোর সে আর নতুন কথা কী! কিন্তু শুভেন্দু যদি ঢেঁকুর তোলেন, তাতে কীসের গন্ধ বেরোবে? দুর্নীতির গন্ধ বেরোবে কিনা! তাঁকেও তো দেখা গিয়েছিল টাকা নিতে।"
আভাস বোঝাতে চান, তৃণমূল আর বিজেপির কোনও ফারাক নেই। ঠিক যেমন ফারাক নেই পুরনো তৃণমূল আর নব্য বিজেপিতে। তাঁর কথায়, নাগপুরের প্রেসক্রিপশনে তৃণমূল। দিল্লির সঙ্গে সেটিং রয়েছে নবান্নের।
নাম না করে আবার শুভেন্দুকে ফুটো মস্তান বলেন যুব সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে বলেন, যত ভাগাড়ের লোকগুলো বিজেপিতে গিয়ে জুটেছে।
একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলায় ৭৭টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। বামেরা একটি আসনও জিততে পারেনি। অনেকের মতে, ভোটে এতটাই মেরুকরণ হয় যে বামেদের ভোটও চলে যায় জোড়াফুলে বা বিজেপিতে। ফলে এই প্রথমবার বিধানসভায় বামেদের কোনও বিধায়ক নেই। তাঁদের সংখ্যা শূন্য। রাজ্যে বামেদের কোনও সাংসদও এখন নেই।
এহেন পরিস্থিতিতে এদিনের বিগ্রেড থেকে মীনাক্ষী এদিন শুভেন্দুকে চ্যালে়ঞ্জ করে বলেন, “বিজেপির যে বিধায়করা খাতায়কলমে গেরুয়া দলে থাকলেও বাইরে তৃণমূল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, দম থাকলে তাঁদের বিধানসভার সদস্যপদ খারিজের জন্য পদক্ষেপ করুন। স্পিকারের কাছে আবেদন করুন। চ্যালেঞ্জ করছি বিরোধী দলনেতাকে।"
বিজেপি- তৃণমূলের বোঝাপড়া রয়েছে বলে এদিনের সভায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও দাবি করেন। সেই সঙ্গে বলেন, কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই তৃণমূল শাঁসে-জলে বেড়েছে। তাঁদের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। সাঁইয়া যখন কোতয়াল তখন আর ভয় কী!"
রবিবাসরীয় ব্রিগেডের মূল মন্ত্র ছিল বামেদের ভোট ফেরানো। বামেদের একটা বড় ভোট যে ‘বিভ্রান্ত’ হয়ে বিজেপিতে বা তৃণমূলে চলে গিয়েছে, তাদের ঘর ওয়াপসি করানো। সেই কারণেই বিজেপি- তৃণমূলের আঁতাতের গল্প এদিন সিপিএমের সব নেতাই কমবেশি বোঝাতে চেয়েছেন। সেই সঙ্গে আভাস রায়চৌধুরীরা বুঝিয়েছেন, এক বিগ্রেডে থেমে থাকলে হবে না, পাড়ায় পাড়ায় বুথে বুথে যেতে হবে। নইলে এদিন ব্রিগেড শুধু একটু সমাবেশের ছবি হয়ে থেকে যাবে। তার অতিরিক্ত কিছু নয়।