রাজ্যের অভিযোগ, আগাম কোনও আলোচনা ছাড়াই জল ছাড়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কয়েক দিন আগেও ডিভিসির ‘একতরফা জল ছাড়া’র সমালোচনা করেছিলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 July 2025 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবার জল ছাড়া শুরু করছে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পাঞ্চেত (Panchet) ও মাইথন (Maithon) জলাধার থেকে প্রায় ৪৫ হাজার কিউসেক জল (45 Thousand Cusec Water) ছাড়া শুরুর ফলে হুগলি, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমানের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ১০ জেলার প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিভিসি সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) টানা বৃষ্টির জেরে পাঞ্চেত ও মাইথনে জলস্তর বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছনোয় এই জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত। পাঞ্চেত থেকে ৩৬ হাজার এবং মাইথন থেকে ৯ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। এই জল দুর্গাপুর ব্যারেজ হয়ে দামোদর দিয়ে ঢুকছে হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে।
ইতিমধ্যে খবর মিলেছে, দামোদরের জলস্তর বাড়ায় ইতিমধ্যেই খানাকুল, আরামবাগ, আমতা, উদয়নারায়ণপুরের মতো নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্গাপুর ব্যারেজে জলচাপ আরও বাড়লে সেখান থেকেও অতিরিক্ত জল ছাড়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা।
এদিকে ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে ফের একবার রাজ্য-ডিভিসি টানাপড়েন শুরু হয়েছে। রাজ্যের অভিযোগ, আগাম কোনও আলোচনা ছাড়াই জল ছাড়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কয়েক দিন আগেও ডিভিসির ‘একতরফা জল ছাড়া’র সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এই জল ছাড়া ‘মানুষের তৈরি বন্যা’র কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ডিভিসি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত শুধু তাঁদের নয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ঝাড়খণ্ড সরকার, কেন্দ্রীয় জল কমিশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি জলস্তর বিচার করে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই জল ছাড়া হয়। ফলে দোষারোপ অর্থহীন বলেই তাঁদের মত।
এর মধ্যেই বন্যা ঠেকাতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান-সহ ১০ জেলার প্রশাসন যেন নজরদারি বাড়ায়। উদ্ধার ও ত্রাণে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেচ দফতর ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।