দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী গণনির্যাতন কাণ্ডে মোবাইল ট্র্যাকিং-এ ধরা পড়ল ৩ অভিযুক্ত। পুলিশ বাকি পলাতকদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী গণনির্যাতন কাণ্ডে মোবাইল ট্র্যাকিং-এ ধরা পড়ল ৩ অভিযুক্ত। পুলিশ বাকি পলাতকদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
শেষ আপডেট: 12 October 2025 09:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোলের মধ্যেই বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান (GPS Location) এবং কল রেকর্ড ট্র্যাক করে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি পলাতক অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার শনিবার রাতেই নির্যাতিতার বাবা এবং তাঁর সহপাঠীর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন নির্যাতিতা ওই সহপাঠীর সঙ্গেই বাইরে বেরিয়েছিলেন।
পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ঘটনার সময় দুষ্কৃতীরা প্রথমে তাঁদের ফোন কেড়ে নেয়। এরপর আরও দুজন সেখানে আসে। তাদের মধ্যে একজনের মোবাইল ব্যবহার করেই নির্যাতিতা নিজের নম্বরে ফোন করেন। পুলিশের কাছে এই ফোন নম্বরটিই 'ব্রেকথ্রু' হিসেবে কাজ করে। এই নম্বরের সূত্র ধরেই তার ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করে প্রথম জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার কাছ থেকে বাকি অভিযুক্তদের পরিচয় জানা যায়। এই সূত্র ধরেই ৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি একটি গভীর জঙ্গল এলাকা। সেখানে কোনও পাকা রাস্তা বা সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। একমাত্র বাইক বা সাইকেল নিয়েই জঙ্গলের ভেতরে ঢোকা সম্ভব।
পলাতক বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে পুলিশ বর্তমানে সাইকেল ও বাইক নিয়ে জঙ্গলের অভ্যন্তরে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ড্রোন উড়িয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশ আশাবাদী যে আজই বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করা যাবে।
এদিকে, নির্যাতিতা ছাত্রীর গোপন জবানবন্দি ইতিমধ্যেই এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রেকর্ড করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।