দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur Crime Case) শেষ অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁকেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 October 2025 14:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur Crime Case) শেষ অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁকেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্যাতিতার বয়ানে যে পাঁচ জনের উল্লেখ ছিল, তাঁদের সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা তাঁর বয়ানে জানিয়েছিল এই অপরাধে ৫ জন জড়িত আছে। সেই মতোই তদন্ত চালায় পুলিশ। আগেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রবিবার রাতে চতুর্থজনকে ধরে পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর দুর্গাপুর পুরনিগমের এক অস্থায়ী কর্মীকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়। গ্রেফতার হওয়া শেষ দু'জনকে আজই দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে খবর। বাকি তিনজনকে আগেই ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সূত্রের খবর, ধৃতদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি, অভিযোগকারী তরুণীর এক সহপাঠী বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ওই যুবকের কাছ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
শুক্রবার রাতে দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী কলেজের হস্টেল থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে খাবার খেতে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, ফেরার পথে তাঁকে জোর করে একটি নির্জন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় (Durgapur Medical Student Assault)। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ৩ হাজার টাকা চায়। মেয়েটি টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধরও করা হয়। কিছু সময় পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর বন্ধু তাঁকে উদ্ধার করে।
দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নির্যাতিতা। ইতিমধ্যেই মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়া গেছে। যেখানে ধর্ষণের ইঙ্গিত মিলেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, নির্যাতিতার যৌনাঙ্গে গভীর ক্ষত রয়েছে। প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। ধর্ষণের জেরেই এই রক্তপাত বলেই অনুমান।
নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, 'রাত দশটার পর ফোন পেয়ে কলেজে পৌঁছাই। মেয়েকে ভয়ংকর অবস্থায় পাই। ওর শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল।' ঘটনার রাতে যেই বন্ধুর সঙ্গে তরুণী বেরিয়েছিলেন, তাঁকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে অন্তত পাঁচজন যুবক উপস্থিত ছিল। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। নির্যাতিতা এখনও দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রবিবার উত্তরবঙ্গে যাওয়ার পথে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দুর্গাপুর-কাণ্ড নিয়ে মুখ খোলেন। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব আছে। বাইরে থেকে যারা পড়তে আসে, বিশেষ করে মেয়েরা, তাদের রাতে বাইরে বেরোতে দেওয়া ঠিক নয়।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ কাউকেই ছাড়বে না, কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।