সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর কথার বিকৃতি করা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 12 October 2025 23:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur incident) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা চলছে। বিরোধীরাও ছেড়ে কথা বলছে না। যা নিয়ে রীতিমত বিরক্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উত্তরবঙ্গে পৌঁছেই হাতে মাইক নিয়ে বললেন, 'আমি ভাত খাই', সেটা না বলে 'আমি ভাত...’ বলে দিচ্ছেন। এসব রাজনীতি আমার সঙ্গে করার চেষ্টা করবেন না।' সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর কথার বিকৃতি করা হয়েছে।
ঘটনা হল, রবিবার উত্তরবঙ্গ সফরে (North Bengal visit) যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। কীভাবে ওই ছাত্রী রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরোলেন, সেই নিয়ে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের (Durgapur Medical College) দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তারপর থেকেই তাঁর মন্তব্য নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে।
সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'আমার কথা বিকৃত করা হয়েছে।' অনুযোগ করে বলেন, তাঁর কথা যেন বিকৃত না করা হয়। মমতার অভিযোগ, প্রশ্ন করার পর তাঁর উত্তরকে ভেঙে নিজের মতো বানিয়ে নেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি তাও আপনাদের সঙ্গে মিট করি, অনেকেই সেটা করেন না। প্রশ্ন তৈরি করে উত্তর দেন।’ ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, নাম না করে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই বিঁধেছেন।
এদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন রাতে টুইট করে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ‘মেয়েদের রাতে বাইরে যাওয়া উচিত নয়’ বক্তব্য ‘মধ্যযুগীয় মানসিকতার পরিচায়ক’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য কোনওভাবে বিকৃত করা হয়নি। প্রমাণ-সহ ভিডিও আমাদের কাছে রয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, এই মন্তব্য আসলে নারী নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের চরম ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশল।
শুভেন্দু আরও লিখেছেন, 'পশ্চিমবঙ্গে নারী নির্যাতনের ঘটনাকে ঢাকতে এখন ভিকটিম শেমিং-ই রাজ্য সরকারের নীতি হয়ে উঠেছে।
তবে সকালেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ঘটনার তদন্তে কোনও ভাবেই শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ, দু’পক্ষকেই তিনি এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
বস্তুত, দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে ‘গণধর্ষণের’ ঘটনায় ইতিমধ্যেই শেখ রিয়াজউদ্দিন, শেখ ফিরদৌস এবং আপ্পুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।