প্রায় ৫-৭ বছর ধরে গলদা চিংড়ির হারিয়ে যাওয়াকে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 10 August 2025 10:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দামোদর নদের (Damodar River) জলাধারে এক সময় যাঁর রাজত্ব ছিল, সেই দেড় হাত দাঁড়-ওয়ালা গলদা চিংড়ি (Golda Chingri) আজ বিলুপ্তির পথে। দুর্গাপুর ব্যারেজে (Durgapur Barrage) এক সময় রাজ্য জুড়ে যার খ্যাতি ছিল, আজ তার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খাদ্য রসিকরা। এই প্রজাতির বিলুপ্তি শুধু ভোজনরসিকদেরই নয়, ধাক্কা দিয়েছে দুর্গাপুর ও বাঁকুড়ার প্রায় ১,৮০০ মৎস্যজীবী পরিবারের রোজগারেও।
মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু মাছ ধরিয়ে অবাধে ব্যবহার করছে নেট জাল, যা স্থানীয়ভাবে ‘মশারী জাল’ নামে পরিচিত। এর ফলে নদীতে চারা মাছ ও ডিম প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। গলদা চিংড়ির সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে গজাল, বোয়াল, শোল, পাবদা, চিতল, রুই, কাতলা-সহ নানা প্রজাতির মিষ্টি জলের মাছের সংখ্যাও।
এখনই সচেতন না হলে, নদীর বুকে আরও দেশি মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হতে বেশি দিন সময় নেবে না বলেই আশঙ্কা মৎস্যজীবীদের। পরিস্থিতি বদলাতে তাঁরা নিজ উদ্যোগে নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে সচেতনতামূলক প্রচার এবং নজরদারি শুরু করেছেন।
দুর্গাপুরের আশিসনগর, জলপাইপাড়া সহ একাধিক গ্রামের বহু পরিবার দিন গুজরান করেন মাছ শিকার করেই। বাঁকুড়ারও বহু পরিবার এই নদীর উপর নির্ভরশীল। উপরন্তু, এই জলাধারের জল পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। বাসিন্দাদের দাবি তাই মাছের পাশাপাশি জল সংরক্ষণেও সচেতনতা জরুরি।
প্রায় ৫-৭ বছর ধরে গলদা চিংড়ির হারিয়ে যাওয়াকে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গলদা চিংড়ি ফিরিয়ে আনতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে, অচিরেই নস্টালজিয়ায় পরিণত হবে এই সুস্বাদু নদী-রত্ন।