আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি এবারে বিদ্যুৎ মাশুলে ছাড়ের পরিমাণ বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করা হল।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 31 July 2025 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের সভা থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। জানালেন, এবারে দুর্গাপুজোতে রাজ্যের সব ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলো পাবে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান (চাঁদা)।
গতবারে পুজো কমিটিগুলোকে ৮৫ হাজার টাকা করে অনুদান (Durga Puja 2025 Government Grant) দিয়েছিল রাজ্য। এবারে সেই অনুদানের পরিমাণ ক্লাব পিছু আরও ২৫ হাজার টাকা করে বাড়ানো হল। আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি এবারে বিদ্যুৎ মাশুলে ছাড়ের পরিমাণ বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করা হল। একই সঙ্গে পুজো কমিটিগুলোর ফায়ার লাইসেন্স-সহ অন্যান্য ফি মুকুবের কথাও জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
এবারে ২৮ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারে পুজো কার্নিভাল হবে ৫ অক্টোবর।
পুজো উদ্যোক্তাদের অনেকেই মনে করেছিলেন, এবারে হয়তো অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হতে পারে। অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে এ ব্যাপারে কৌতূহল বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে জানতে চান, "এবারে কত?" এর পরে নিজেই দর কষাকষির স্টাইলে ৮৫, ৯০, ১ লাখের পর নিজেই জানান, এবারে অনুদান ১ লাখ ১০ হাজার!
গত বছর রাজ্যের ক্লাবগুলিকে দুর্গাপুজো আয়োজনের জন্য অনুদানের বৈঠক থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় চাঁদা আরও বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হতে পারে। সেটা আরও ১০ হাজার বাড়িয়ে দেওয়ায় খুশি উদ্যোক্তারা। তবে অনেকের মতে, বছর ঘুরলেই ভোট, সম্ভবত সে কারণেই অনুদানের অঙ্ক এক লপ্তে ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হল।
এদিনের বৈঠকে পুজো কমিটিগুলির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। সেখানেই এই ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দুর্গাপুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অঙ্গ। “এই সময় শিল্প ও বাণিজ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে এই উৎসবকে ঘিরে” বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে ক্লাবগুলিকে অনুদান দিয়ে আসছে রাজ্য। প্রথমে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অঙ্ক বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে তা একধাক্কায় পৌঁছয় ৫০ হাজারে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে তা দাঁড়ায় ৮৫ হাজারে। এবারে সেই অঙ্ক পৌঁছল ১ লক্ষ ১০ হাজারে।
পর্যবেক্ষকরা অনেকে মনে করেন, রাজ্য সরকার অনুদান ঘোষণার পর থেকে পুজো ঘিরে অতীতে যে চাঁদার জুলুম দেখা যেত তা বন্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের অনুদানের টাকায় বিভিন্ন ক্লাব থিমের প্রতিমা, মণ্ডপ গড়েন। সেই সূত্রে দুর্গা পুজোকে ঘিরে ইউনেস্কো থেকে সেরার শিরোপাও পেয়েছে বাংলা।
অতীতে এ ব্যাপারে মামলাও গড়িয়েছিল আদালতে। যদিও আদালতে সেই মামলা টেকেনি। কারণ, আদালতে রাজ্য জানিয়েছিল, দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাংলার মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি জড়িয়ে রয়েছে। অনুদান বন্ধ করে দিলে অনেক পুজো কমিটির পক্ষেই বাংলার এই সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
পুজোর অনুদান নিয়ে অনেকের মামলা প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "অনেকে কোর্টে চলে যায়, কেউ কেউ বলে কেন ওদের সাহায্য করা হবে? আরে ভাই এটা একটা উৎসব, পুজো হয় বলে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ হয়, এগুলো তো বলছেন না।"