
শেষ আপডেট: 18 October 2023 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: এক সময় ব্রাহ্মণদের পুজো হিসাবেই খ্যাত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক কারণে বন্ধ হয়ে যায় সেই দুর্গাপুজো। এরই মাঝে স্থানীয় জমিদারের ছেলে আচমকাই পড়ে যায় কুয়োতে। সন্তানকে বাঁচাতে দুর্গা ঠাকুরের কাছে মানত করেছিলেন জমিদার। আর ছেলের প্রাণ বাঁচতেই ফের শুরু হয় নগরীর রায় পরিবারের দুর্গাপুজো।
কিশোরী মোহন রায় তখন ছিলেন নগরীর জমিদার। তাঁর বড় ছেলে গ্রামের একটি কুয়োয় পড়ে যায়। তখন তিনি দুর্গার কাছে মানত করেন, জমিদারের পা ধরে যদি তাঁর ছেলে কুয়ো থেকে উঠতে পারে তাহলে তিনি ফের গ্রামের বন্ধ হয়ে যাওয়া পুজো শুরু করবেন। এরপরই কিশোরী মোহনবাবুর পা ধরে কুয়ো থেকে উঠে আসতে পারে তার ছেলে। প্রায় তিনশো বছর আগে নগরীর রায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুনরায় শুরু হয় দুর্গাপুজো। বংশ পরম্পরায় আজও সেই পুজো রীতি মেনে হয়ে আসছে সিউড়ির ১ ব্লকের নগরীর রায় পরিবারে।
আর পাঁচটা পুজোর মতো গয়না কিংবা শাড়ি নয়, মাটির পোশাক ও অলঙ্কারেই সেজে ওঠে এখানকার দুর্গা প্রতিমা। আসলে পরাধীন ভারতে ইংরেজদের তৈরি প্রতিমার সাজ বর্জন করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রায় পরিবার। এখানে এই পরিবারের একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী সেলুলার জেলে বন্দিও ছিলেন।
বর্তমানে যেখানে দুর্গাপুজো হয়, তার পাশেই ভাঙাচোরা একটি মন্দিরে গিয়ে ছেলের প্রাণভিক্ষা করেছিলেন কিশোরী মোহন রায়। পুজোর তখন বাকি ছিল মাত্র ১৫-১৬ দিন। আর ছেলের প্রাণ বাঁচতেই সেই অল্প সময়ের মধ্যে পুজোর তোড়জোড় শুরু করে দেন তিনি। খোঁজ করতে থাকেন ভাল প্রতিমা শিল্পীর। সেই বছর যে শিল্পীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আজও তাঁর বংশধররাই প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব পান।
রায় পরিবার পুজো করলেও এই পুজোর প্রথম সঙ্কল্প হয় ব্রাহ্মণ পরিবারের যামিনী মুখোপাধ্যায়ের নামে। তারপর রায় পরিবারের বয়:জেষ্ঠদের নামে সঙ্কল্প হয়। বর্তমানে তাঁতিপাড়া বক্রেশ্বরের কাছে আছে ব্রাক্ষ্মণদের বংশধররা। বর্তমানে এই পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য রাজ্য কিংবা দেশের বাইরে কর্মসূত্রে থাকেন। পুজোর সময়ে গ্রামের এই পুজো দেখে চলে যান তাঁরা। বছর বছর এইভাবেই হয়ে আসছে নগরীর রায় পরিবারের দুর্গাপুজো।