দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুরন্ত গতিতে ছুটে চলেছে ট্রাক। চালকের আসনে তখন বুকে হাত চেপে ছটফট করছেন ড্রাইভার, স্টিয়ারিং ধরার কেউ নেই, গাড়ি বাঁক নিল সজোরে। সামনেই খেলা করছে কয়েকটি শিশু। সেকেন্ডের অপেক্ষা। ঝাঁপিয়ে পড়ে স্টিয়ারিং ধরলেন এক মহিলা। সজোরে ব্রেক কষে থেমে গেল ট্রাক। শিশুদের একেবারে গা ঘেঁষে।
নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে এখনও কেঁপে ওঠেন মঞ্জু উপাধ্যায়। ৩৪ বছরের মঞ্জু গাজিয়াবাদ ডেভলপমেন্ট অথরিটির (জিডিএ) হোম গার্ড। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসের জেরেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রাকে উপস্থিত জিডিএ কর্তা, ইডি অফিসার, পুলিশ ও হোম গার্ডরা। প্রাণ বেঁচেছে ট্রাকের সামনে চলে আসা কয়েকটি শিশুরও।
ঘটনা গত ৯ সেপ্টেম্বরের। মঞ্জু উপাধ্যায়কে পুরস্কার দেওয়ার কথা ভাবছেন জিডিএ কর্তৃপক্ষ। খবরের শিরোনামে এখন তাঁরই নাম। সে দিন কী হয়েছিল, মিডিয়াকে জানিয়েছেন মঞ্জু। ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার কয়েকজন জিডিএ অফিসার, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কয়েকজন কর্তা, পুলিশ ও হোম গার্ডদের নিয়ে বিজয় নগরের দিকে রওনা দিয়েছিল ট্রাক। বেলা তখন সোয়া ২টো। ট্রাক পৌঁছয় সোমবার বাজার রোডের উপরে। তখনই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।
মঞ্জুর কথায়, "আমি চালকের পাশেই বসেছিলাম। হঠাৎ দেখি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এলোমেলো চলছে। তার গতিও বেড়ে গেছে অনেক। চালক তখন ছটফট করছেন। গাড়ির ভিতরে হইচই শুরু হয়ে যায়।" আচমকাই হার্ট অ্যাটাক হয় চালকের। তাঁকে সামলানো আর গাড়ি থামানো, দুটোই জরুরি হয়ে পড়ে সেই মুহূর্তে। মঞ্জু বলেছেন, "চালককে শক্ত করে ধরে বসাতে যাব, আচমকাই বাঁক নেয় ট্রাক। সামনেই একটা ইলেকট্রিক পোস্ট। ফুটপাথের নীচে খেলা করছে সাত-আটটা শিশু। আমি চিৎকার করে উঠলাম। কিন্তু ওরা আমার গলা শুনতে পেল না।"
আসন্ন মৃত্যুকে দেখে কী বুক কেঁপেছিল মহিলা হোমগার্ডের? মঞ্জুর কথায়, গাড়ির বাকিরা এবং ট্রাকের একদম কাছে চলে আশা শিশুদের বাঁচানোটাই তখন একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। এক সেকেন্ডের অপেক্ষা মানে মারাত্মক বিপদ ঘটে যাওয়া। তাই আর কিছু ভাবতে পারেননি মঞ্জু উপাধ্যায়। ঝাঁপিয়ে পড়ে স্টিয়ারিং ঘোরান তিনি। চাপ দেন ব্রেকেও। একটা ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে যায় ট্রাক। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সকলেই।
মেরঠের বাসিন্দা মঞ্জু। সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স করার পরে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। গাজিয়াবাদের বিভিন্ন থানায় কাজ করেছেন। বর্তমানে জিডিএ-র হোম গার্ড। ডাকাবুকো এই মহিলা তাঁর সাহসের পরিচয় আগেও কয়েকবার দিয়েছেন।
জিডিএ কর্তারা জানিয়েছেন, চালকের নাম ঋষি পাল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই মৃত্যু হয় তাঁর। মঞ্জু না থাকলে সে দিন বড় বিপদ ঘটে যেতে পারত।