দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার জয়পুরে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভস্থলে আচমকাই হাজির হলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত। সেখানে বললেন, আমার বাবা-মা কোথায় জন্মেছিলন আমি জানি না। আমাকেও ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানান, দেশে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখার জন্য সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার করা হোক।
জয়পুরের যে অঞ্চলে অবস্থান চলছে, তাকে বলা হচ্ছে রাজস্থানের শাহিনবাগ। দিল্লির শাহিনবাগে গত দু’মাস ধরে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন মহিলারা। রাজস্থানের শাহিনবাগে অশোক গহলৌত বলেন, রাজ্য সরকার আন্দোলনকারীদের পাশে আছে। যদি প্রয়োজন হয় তবে প্রথমে ডিটেনশন সেন্টারে যাবেন তিনি নিজে। তাঁর কথায়, “আমি যদি নিজের সম্পর্কে সব তথ্য না দিতে পারি, তাহলে আমাকেও ডিটেনশন সেন্টারে যেতে বলা হবে। আমি জানি না, আমার বাবা-মা কোথায় জন্মেছিলেন। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, যদি সেরকম পরিস্থিতি আসে, আমি সবার আগে ডিটেনশন সেন্টারে যাব।”
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসমের বিজেপি সরকারও প্রথমে এনআরসি করতে চায়নি। পরে বলেন, “সরকারের আইন করার অধিকার আছে। কিন্তু সরকারকে মানুষের ভাবাবেগকে মেনে শাসন করতে হয়। দিল্লির শাহিনবাগের মতো দেশের নানা প্রান্তে এখন প্রতিবাদ হচ্ছে। সরকারের উচিত মানুষের সেন্টিমেন্ট বোঝা।”
গহলৌত বলেন, বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করেছেন। আমরা চাই, কেন্দ্রীয় সরকার তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক।
দিল্লিতে ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনসভায় বলেছিলেন, সারা দেশে এনআরসি করার কথা হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি দেশের ১৩০ কোটি নাগরিককে বলতে চাই, ২০১৪ সালে আমার সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এনআরসি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে অসমে এনআরসি করা হয়েছিল।”