ভরা বর্ষায় দামোদরে খোঁজ মিলল ডলফিনের। বৃহস্পতিবার জামালপুরের সাদিপুরে মৎস্য়জীবীদের জালে একটি ডলফিন আটকে পড়ে।

শেষ আপডেট: 7 August 2025 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ভরা বর্ষায় দামোদরে খোঁজ মিলল ডলফিনের। বৃহস্পতিবার জামালপুরের সাদিপুরে মৎস্য়জীবীদের জালে একটি ডলফিন আটকে পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসুক মানুষজন দামোদরের পাড়ে ভিড় জমান। জানা গেছে সাদিপুরের বাসিন্দা প্রশান্ত পাকড়ের পাতা জালে ডলফিনটি আটকে পড়ে।
তিনি জানান, প্রতিদিনের মত বুধবার রাতে নৌকা নিয়ে দামোদর নদে জাল পাতেন তিনি। যার পোশাকি নাম ফাঁস জাল। বৃহস্পতিবার সকালে নদী থেকে জাল টানতেই ডলফিনটি তাঁর চোখে পড়ে। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন জালে বোধহয় বড় কোনও মাছ পড়েছে। তবে ভুল ভাঙে জালে আটকে পড়া ডলফিনটি দেখে। ডলফিনটির ওজন ৫০ থেকে ৫৫ কেজি বলে জানান প্রশান্ত পাকড়ে। তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা ডলফিনটিকে জাল কেটে মাঝ নদীতে ছেড়ে দেন।
দেড় মাস ধরে নাগাড়ে বৃষ্টি ও ডিভিসি জল ছাড়ায় দামোদর ফুলেফেঁপে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা উৎপল ঘোষ, শেখ আমিরুলরা জানান, দামোদর নদে তাঁরা কখনও ডলফিন দেখেননি। এই প্রথম ডলফিন আটকে পড়ল জালে।
শুশুক বিশেষজ্ঞ কাটোয়ার বাসিন্দা গণেশ চৌধুরী বলেন, "এইগুলোকে বলা হয় গাঙ্গেয় ডলফিন। যাকে বলা হয় শুশুক। এদের প্রধান খাবার হল মাছ। গঙ্গায় মাছ কমে যাওয়ায় এরা মাছের খোঁজে বিভিন্ন খাড়ি বা নদীতে ঢুকে পড়ছে। কাটোয়ায় অজয়, ভাগীরথী নদীতে ৪৫ থেকে ৪৮ টা শুশুক আছে। মার্চ থেকে অগস্ট মাস পর্যন্ত এদের বাচ্চা হয়।" তিনি জানান, ২০০৪ সালে এই রাজ্যে শুশুকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ হাজার। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যে আছে ৭০০ মতো শুশুক। প্রজননের সময় কাটোয়ার কল্যাণপুরে বাবলা ও ভাগীরথী সঙ্গমস্থলে শুশুকরা ভিড় করে প্রয়োজনীয় মাছের সন্ধান মেলে বলে। অজয় ভাগীরথীর সঙ্গমস্থল উদ্ধারণপুরঘাটেও প্রচুর সংখ্যক শুশুক জমে প্রজননের সময়ে।