এই ঘটনার পরই পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ বাহিনী হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিযুক্ত চিকিৎসক
শেষ আপডেট: 12 December 2025 00:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে চড় মারার গুরুতর অভিযোগ উঠল শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে (Siliguri Govt Hospital)। বুধবার মৌ মণ্ডল নামের এক রোগী শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে যান। পরিবারের দাবি, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন যে রোগীর অবস্থা ততটা গুরুতর নয়, তাই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু হাসপাতাল চত্বরের বাইরে বেরোতেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন মৌ। পরিবারের লোকেরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এরপর তাঁকে অবজারভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসার সময় ডিউটি ডাক্তার তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ পরিবারের (Allegation against Doctor)। তাদের দাবি, চিকিৎসার নামে রোগীর সঙ্গে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরই পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ বাহিনী হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোগীর পরিবারের বক্তব্য, যে চিকিৎসকের ওপর রোগীর সুরক্ষার দায় থাকে, তাঁর কাছ থেকেই এমন আচরণ কোনওভাবেই মানা যায় না।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক (Doctor Accused of Slapping Patient)। তাঁর দাবি, তিনি চড় মারেননি। অভিযুক্ত চিকিৎসক জানান, রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল না। তাঁর সাইকোলজিক্যাল সমস্যা ছিল। তাঁকে জল দেওয়া হয়, হাঁটাচলা করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসক আরও বলেন, রোগী জানিয়েছেন তাঁর এরম প্রায়ই হয়ে থাকে। কিন্তু এসবের মধ্যেই হঠাৎ পরিবারের লোকেরা চিৎকার করতে শুরু করেন বলে দাবি তাঁর।
চিকিৎসকের কথায়, রোগীকে সামলানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়, যা চিকিৎসার অংশ বা 'লাইন অফ ট্রিটমেন্ট'। একথা মানতে নারাজ আক্রান্ত মহিলার পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা জানান, এটি কোনওভাবেই চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হতে পারে না।
ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং শিলিগুড়ি পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি চিকিৎসকের পক্ষ থেকে কোনও ভুল বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালে রোগী হয়রানি কিংবা চিকিৎসকের আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রায়ই শোনা যায়। কিছু সময় আগেই হাওড়ার হাসপাতালে (Howrah's Hospital) রোগীর পরিবারের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক তরুণী জুনিয়র চিকিৎসক।
অভিযোগ ছিল, পেশায় ট্র্যাফিক হোমগার্ড তাঁর আত্মীয়কে নিয়ে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে গেছিলেন। সেইসময় সেখানে ছিলেন ওই তরুণী চিকিৎসক। অভিযোগ সামান্য কথা কাটাকাটি থেকেই হোমগার্ড দলবল নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়েছিল। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় তদন্তে নেমে অভিযুক্ত হোমগার্ড-সহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।