গত ৩১ জানুয়ারি নিজের বায়োডেটা জমা দিয়েছেন রিঙ্কু। তাঁর বক্তব্য, ২০১৩ সাল থেকে নিউটাউনে বসবাস করছেন তিনি। বিয়ের পর অল্প সময় কেটেছে, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা দীর্ঘদিনের।

দিলীপ ঘোষ এবং রিঙ্কু ঘোষ
শেষ আপডেট: 19 February 2026 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Elections 2026) দিন ঘোষণা হতে পারে - এমন সম্ভাবনার মধ্যেই প্রচারের রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। মার্চের শুরু থেকেই রাজ্যজুড়ে দলীয় কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। যদিও প্রার্থী তালিকা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ যে শুরু হয়ে গেছে, তারই ইঙ্গিত মিলছে।
দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থী হতে চেয়ে বায়োডেটা জমা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) স্ত্রী রিঙ্কু ঘোষ (Rinku Ghosh)। মেদিনীপুর, বীজপুর এবং নিউটাউন - এই তিনটি আসনে লড়াই করতে আগ্রহী তিনি। জানা যাচ্ছে, গত ৩১ জানুয়ারি নিজের বায়োডেটা জমা দিয়েছেন রিঙ্কু (Rinku Ghosh Biodata)। তাঁর বক্তব্য, ২০১৩ সাল থেকে নিউটাউনে বসবাস করছেন তিনি। বিয়ের পর অল্প সময় কেটেছে, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা দীর্ঘদিনের। সাংগঠনিক দায়িত্বও সামলেছেন অতীতে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভোটের ময়দানে নামতে চান।
এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দিলীপ ঘোষও (Dilip Ghosh)। তিনি বলেন, “ও দলের একজন কর্মী, আমার চেয়েও পুরনো। আমি বিধায়ক-সাংসদ হয়েছি, ওঁরও ইচ্ছা থাকতেই পারে। হাজার হাজার মানুষ আবেদন করছেন। যে কেউ আবেদন করতে পারেন। শেষ সিদ্ধান্ত দলই নেবে।”
এদিকে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই তৃণমূল কংগ্রেসেও (All India Trinamool Congress)। তৃণমূল ভবনে বসানো হয়েছে বিশেষ বায়োডেটা বক্স। যে কোনও সদস্য নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র উল্লেখ করে আবেদন জমা দিতে পারছেন। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের পাশাপাশি সমীক্ষা রিপোর্টও বিবেচনায় রাখা হবে।
ভোটের দিন ঘোষণার আগেই দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতি - সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, এবার তুলনামূলক অনেক কম দফায় ভোট গ্রহণ হবে। ২ থেকে ৩ দফায় ভোট সেরে ফেলবে কমিশন। এটা ঠিক যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অসম, কেরল, তামিলনাড়ুতে ভোট হবে। তবে বাংলা ছাড়া আর কোনও রাজ্যেই এক বা দু’দফার বেশি ভোট করাতে হয় না কমিশনকে।
সিইও দফতর সূত্রে এও খবর, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ আসবে কলকাতায়। প্রস্তুতি বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। যে যে বিষয়ে কমিশন খামতি চিহ্নিত করবে, সেগুলি নিশ্ছিদ্র করার নির্দেশ দেবে কমিশন। তার পর মার্চের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে ভোট ঘোষণা করা হতে পারে।