কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ব্যাপকভাবে সরব হয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, বিহার এবং বাংলা ভোটের আগে একটা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিয়ে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।

দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 4 September 2025 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন ধরে ডিটেনশন ক্যাম্পের (Detention Camp) বিষয়টি অসমেই সীমাবন্ধ ছিল। সে রাজ্যে বিদেশি বলে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সেখানে আটক করে রাখা হয়। তবে এখন অভিবাসী ও বিদেশি বিষয়ক নয়া আইনে সব রাজ্য সরকারকেই ডিটেনশন ক্যাম্প চালু করতে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Govt)। এই সিদ্ধান্তকে কঠিন অথচ সাহসী বলে আখ্যা দিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
সোমবার রাত থেকে সারা দেশে চালু হওয়া ওই আইনে বলা হয়েছে প্রাথমিক তদন্তে কোনও ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় প্রমাণে ব্যর্থ হলে বা নথিপত্র সন্দেহজনক মনে হলে তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো যেতে পারে। এই ঘোষণার পর অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও (West Bengal) আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে দিলীপের সাফ কথা, 'যেভাবে পাশাপাশি দেশগুলি থেকে লোকেরা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছে তাদের বের করার দরকার আছে। চিহ্নিত করার পর তাদের আলাদা করে রাখতেই হবে। পরে কথাবার্তা বলে ফেরত পাঠাতে হবে। বিশ্বের কোনও দেশ বিদেশিদের এইভাবে থাকতে দেয় না, আমরাও দেব না।'
কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ব্যাপকভাবে সরব হয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, বিহার (Bihar) এবং বাংলা (Bengal Election) ভোটের আগে একটা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিয়ে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি (BJP)। তবে দিলীপ ঘোষ বলছেন, ''এর আগে কোনও সরকার এই কাজ করার সাহস করেনি। বরং এদের আধার, ভোটার কার্ড দিয়ে ভারতীয় বানিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে, দেশের জনবিন্যাস নষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে ইন্ডিয়া ফার্স্ট। দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কঠিন কিন্তু করতেই হবে।''
প্রসঙ্গত, এই সংক্রান্ত মামলাও আর সাধারণ আদালতের বিচারের এক্তিয়ারে থাকছে না। অসমের মতো সন্দেহজনক বিদেশিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কাছে পেশ করা হবে। প্রশাসনের তরফে এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন জেলাশাসকেরা। প্রাথমিক তদন্ত তদারকের ভার জেলাশাসকদের দেওয়া হয়েছে সদ্য চালু হওয়া আইনে। দু’দিন আগে আইনটি সারা দেশে কার্যকর করেছে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
নয়া আইনটি এমন সময় চালু করা হল যখন দেশ জুড়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অসম বাদে বাকি রাজ্যগুলিতে ডিটেনশন ক্যাম্প না থাকায় ধৃতদের পুশ ব্যাক বা ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রেক্ষিতে এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গ নিয়েও তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা করেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা। দাবি, বাংলায় ১ কোটির বেশি জালি ভোটার আছে। তাদের বলেই বিগত নির্বাচনগুলিতে জিতেছে তৃণমূল। তাদের বের করা নির্বাচন কমিশনের (ECI) অধিকারের মধ্য পড়ে। এসআইআর যখনই শুরু হোক, এই ভুয়ো ভোটাররা বাদ গেলে তৃণমূল জিততে পারবে না। তাই তারা এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে।