এ দিন পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দিলীপ বলেন, আগের বার রাজ্যে পরিবর্তনের চেষ্টা হলেও তা মাঝপথে থমকে গিয়েছে।

দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 6 January 2026 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়ার (Nadia) কুপার্স ক্যাম্পে ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ থেকে সরাসরি মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh News)। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘মন্ত্রী তো হতেই হবে। মন্ত্রী না হলে আপনাদের সুবিধা দেব কীভাবে? গরিব মানুষের জীবনে পরিবর্তনই বা আনব কী করে?’’
এ দিন পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দিলীপ বলেন, আগের বার রাজ্যে পরিবর্তনের চেষ্টা হলেও তা মাঝপথে থমকে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘অর্ধেক পথ গিয়েই আটকে গিয়েছিলাম। তাই এ বার গ্রামে-গঞ্জে লড়াই শুরু হয়েছে। ঘরে ঘরে সভা হচ্ছে। পরিবর্তন আসবেই, কারণ পরিবর্তনই যুগের নিয়ম। তবে আমরা চাইছি, সেটা একটু তাড়াতাড়ি হোক।’’
কেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার (BJP News) প্রয়োজন, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় না এলে কেন্দ্রের মোদী সরকারের গরিব কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে না। তিনি বলেন, ‘‘মোদী সরকার গরিব মানুষের জন্য সামগ্রী পাঠাচ্ছে। কিন্তু বিজেপি সরকার না হলে সেই সব প্রকল্প কার্যকর হবে কীভাবে?’’
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আবাস যোজনা থেকে শুরু করে শৌচাগার, জল জীবন মিশন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই লুটপাট হচ্ছে। এমনকি বিদ্যুৎ, ড্রেন ও রেশন ব্যবস্থাতেও দুর্নীতির অভিযোগ করেন তিনি। দিলীপের কটাক্ষ, ‘‘মেয়েদের জুতো দেওয়া হচ্ছে, তাতে ফাটা। সাইকেল দেওয়া হচ্ছে, অথচ টিউব নেই, টায়ার নেই। এই সব কারণেই আমরা পরিবর্তন যাত্রায় নেমেছি।’’
সভায় উঠে আসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ প্রসঙ্গও। দিলীপ বলেন, কুপার্স ক্যাম্পে উপস্থিত মানুষদের বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে আসা। তাঁদের মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যদিও তাঁর সেই স্বপ্ন এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তাঁর দাবি, ‘‘এখন সিএএ চালু হয়েছে। কিন্তু যত দিন না রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হচ্ছে, তত দিন শ্যামাপ্রসাদবাবুর আশা পূরণ সম্ভব নয়।’’
কৃষকদের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, মোদী সরকার কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করলেও পশ্চিমবঙ্গে তার সুফল মিলছে না। ধানের সহায়ক মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে ফড়েদের কাছে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। গম বা মাছ চাষের ক্ষেত্রেও একই ছবি। দিলীপের মতে, ২০১০ সালের পর থেকেই এই অবনমন শুরু হয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, ‘‘গ্রাম বাংলা বঞ্চিত, এসসি-এসটি বঞ্চিত, সংখ্যালঘু মুসলমানরাও বঞ্চিত। সেই বঞ্চনার কারণেই রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে।’