দিলীপ ঘোষের লাগাতার মন্তব্যে অস্বস্তিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্যকে দিল্লিতে ডেকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন অমিত শাহ।

অমিত শাহ, শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 2 January 2026 23:22
এই স্বস্তি তো এই অস্বস্তি। রাজনীতিতে ফের সক্রিয় দিলীপ ঘোষকে নিয়ে এমনই অবস্থা রাজ্য বিজেপির। বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত হওয়া থেকে যে স্বস্তির শুরু হয়েছিল, তার তাল কাটল দিন দুয়েকের মধ্যেই। এর মাঝে দীর্ঘদিন বাদে সল্টলেকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে রাজ্য সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করা পর্যন্ত ঠিকই ছিল, অস্বস্তির পর্ব শুরু তার পরের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে। জের, রাজ্য সভাপতির দিল্লি যাওয়া ও অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক।
দিলীপ ঘোষকে ফের রাজ্য বিজেপিতে সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। প্রকাশ্যেই তিনি বলেছেন দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আগামী নির্বাচনে রাজ্য বিজেপির জন্য প্রয়োজন।' কিন্তু বৃহস্পতিবার বার বেলায় সল্টলেকে বিজেপি দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করা দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে প্রমাদ গুণতে শুরু করেন বঙ্গ বিজেপির অনেকেই।
দিলীপ ঘোষ যে মন্তব্য করেন তাতে অনেকেই মনে করেন, তিনি নাম না করলেও নিশানা কাকে করেছেন। দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু লোক বাইরে থেকে এসেছে, তারা ওই কালচারে বিশ্বাসী। তারাই গো ব্যাক বলেছে কালো পতাকা দেখিয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর আরও মন্তব্য ছিল, শুধু দৌড়াদৌড়ি করলে আর বড়বড় কথা বললেই সব জায়গায় জেতা যায় না। অন্য দল থেকে এলেও আগে বিজেপিকে জানতে হয়, বুঝতে হয়। দিলীপ কারও নাম না করলেও বঙ্গ বিজেপির নেতারা বুঝে যান তিনি ঠিক কাকে উদ্দেশ্য করে এইসব কথা বলেছেন।
কিন্তু বিজেপির দিল্লির নেতারা (পড়ুন অমিত শাহ) ক্ষুব্ধ হন দিলীপ ঘোষের একটি সাক্ষাৎকারে। যেখানে দীঘার জগন্নাথধাম মন্দির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন রাম মন্দির করেও তো লোকসভায় হারতে হয়েছে, প্রসঙ্গত অযোধ্যার রাম মন্দির ফৈজাবাদ লোকসভার মধ্যে পড়ে, যেখানে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির অবধেশ প্রসাদ। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যেই আগুনে ঘি পড়ে।
সূত্রের খবর, দিলীপ ঘোষের সেই বক্তব্য পৌঁছয় দিল্লিতে। শুরু হয় অস্বস্তি।
বঙ্গ বিজেপি সূত্রে খবর, দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পৌঁছে যায় স্বয়ং অমিত শাহের কাছে। তারপরই শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, বৈঠকে অমিত শাহ শমীককে বলেন, 'আপনি সবাইকে নিয়ে (নতুন, পুরনো) চলার কথা ভাবছেন,বলছেন, এটা খুব ভাল কথা। কিন্তু দিলীপ ঘোষ যা বলেছেন তা সবাইকে নিয়ে চলার পরিপন্থী হয়ে যাচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।'
শাহের মনোভাব পরিষ্কার বুঝে নেন শমীক। এরপরই দেখা যায়, মুখে কুলুপ আঁটলেন দিলীপ ঘোষ। যিনি এদিন সকালেও মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুলেছিলেন, তিনিই দুপুরে দলীয় দফতরে পৌঁছে সম্পূর্ণ চুপ। এক্কেবারে স্পিকটি নট।
দলীয় দফতরে আসবেন, বিকেল সাড়ে ৩টেয় সাংবাদিক বৈঠক করবেন, এমনই রটেছিল। তবে তিনি এদিন শত অনুরোধে শুধু এটুকু বললেন, "আমি যেটা বলব তা হল আমি কিছুই বলব না।" অন রেকর্ড কিছু বলতে না চাইলেও এদিন বেশকিছুক্ষণ সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া আড্ডা দেন। সেখানে অনেক কথাই হয় তবে সবটাই অফ রেকর্ড।
রাজ্য দফতরে ততক্ষণে এটা রটে যায় যে বার্তা এসেছে দিল্লি থেকেই। এর মধ্যেই অবশ্য জানা গিয়েছে ৩-৫ তারিখ পর্যন্ত দিলীপ ঘোষ মেদিনীপুরে কাটিয়ে ৬ তারিখ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যৌথভাবে রাজনৈতিক সভা করবেন রানাঘাটে, যা তাঁর দলে ফের সক্রিয় হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য সভা হতে চলেছে।
পাশাপাশি ৭ তারিখ ব্যারাকপুরে (সম্ভাব্য) সভার পর ৮ থেকে ১০ তারিখ উত্তরবঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের সভায় উপস্থিত থাকার কথা তাঁর। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বস্তি ও অস্বস্তির দোলাচলে রাজ্য বিজেপি কখন তিনি মুখর হন, আর মুখর হলে কী যে বলে ফেলেন, সেটাই দেখার।