দ্য ওয়াল ব্যুরো : আর একদিন অপেক্ষা করলেই গোয়ায় সরকার বাঁচাতে পারত না বিজেপি। বুধবার বিজেপির সবচেয়ে পুরানো জোটসঙ্গী শিবসেনার মুখপত্রে এমনই মন্তব্য করা হয়েছে। গোয়ায় যেদিন আস্থাভোটে বিজেপি জয়ী হল, সেদিনই শিবসেনার ‘সামনা’ পত্রিকায় লেখা হয়েছে, আর একদিন অপেক্ষা করলে সরকার পড়ে যেত। বিজেপি যে দু’জনকে উপমুখ্যমন্ত্রী করেছে, তাঁদের একজন যোগ দিতেন কংগ্রেসে। কংগ্রেস সরকার গঠন করে উপযুক্ত পদ দিত তাঁকে। সেজন্যই বিজেপি তাড়াহুড়ো করেছে।
সামনায় বিজেপিকে ধিক্কার দিয়ে বলা হয়েছে, ক্ষমতার লোভে তারা নির্লজ্জ হয়ে গিয়েছে। গোয়ার মাটিতে মনোহরের ছাই মিশে যাওয়ার আগেই তারা ক্ষমতার জন্য লড়াই শুরু করেছে। গণতন্ত্রের পক্ষে এখন খুবই দুর্দিন।
মনোহর পরির্করের মৃত্যুর পরেই বিজেপির দুই জোটসঙ্গী মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি ও গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি দাবি করে, তাদের কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। মনোহরের মরদেহে যখন শত শত মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, তখনই গোয়ায় উড়ে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি। তিনি দুই শরিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। রাতভর আলোচনা করেও তাঁরা কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের হস্তক্ষেপে স্থির হয়, বিধানসভার স্পিকার প্রমোদ সাওয়ান্ত মুখ্যমন্ত্রী হবেন। দুই শরিক দল থেকেই একজন করে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হবে।
সামনা-র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ক্ষমতালোভীদের খেলা শেষ হয় সোমবার মধ্যরাতে। তখনই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রমোদ সাওয়ান্ত শপথ নেন। দুই উপমুখ্যমন্ত্রীও শপথ নেন তাঁর সঙ্গে।
সামনায় কটাক্ষ করা হয়, মনোহরের চিতা যখন জ্বলছে, তখন ক্ষমতালোভীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু করেছিল। আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করলে কী ক্ষতি হত? আসলে বিজেপি ভয় পাচ্ছিল, দেরি করলে কংগ্রেস দুই উপমুখ্যমন্ত্রীকে দলে টেনে নেবে।
সামনায় আরও বিদ্রুপ করে বলা হয়েছে, পরির্করের মরদেহের ওপরে যে গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো হয়েছিল, তা শুকনোর আগেই ক্ষমতালোভীদের কর্মসূচি স্থির হয়ে গিয়েছিল। ক্ষমতায় থাকার জন্য বিজেপি দু’জনকে উপমুখ্যমন্ত্রী করল। গোয়ার মানুষ অসহায়ভাবে সব দেখে গেলেন।
সামনায় দাবি করা হয়েছে, গোয়ার মানুষ এখনও পরির্করের জন্য শোক পালন করছেন। প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর জন্য একদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু যতদূর মনে হচ্ছে, ক্ষমতালোভীদের ধারণাই নেই পতাকা অর্ধনমিত থাকা বলতে কী বোঝায়।
শিবসেনার বক্তব্য, বিজেপি চার বছর আগে ঘোষণা করেছিল, মহারাষ্ট্রে কাউকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হবে না। তাই শিবসেনাকে ওই পদ দেওয়া হয়নি। কিন্তু পরে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, সব রাজ্যেই উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। শেষে গোয়ায় দু’জনকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হল।