ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ঘরের ভিতরে সোফায় বসে রয়েছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি ক্রমাগত টাকা ফেরত চান তাঁর কাছে।

জীবনকৃষ্ণ সাহা
শেষ আপডেট: 30 August 2025 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) ধৃত জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jiban Krishna Saha) আজ ইডি হেফাজতের (ED) মেয়াদ শেষ হয়েছে। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে (Jail Custody) থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এইসব পর্বের মধ্যেই ভাইরাল ভিডিও (Jiban Krishna Viral Video)। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি বারবার টাকা ফেরতের অনুরোধ করছেন বিধায়কের কাছে। অথচ বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা সম্পূর্ণ নির্বিকার! তবে এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি তীব্র আক্রমণ শানালেও, তৃণমূল মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
ভাইরাল ভিডিওটিতে (Viral Video) দেখা যাচ্ছে, ঘরের ভিতরে সোফায় বসে রয়েছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি ক্রমাগত টাকা ফেরত চান তাঁর কাছে। কথোপকথনের মধ্যে শোনা যায়—
ব্যক্তি: দাদা, আপনি বললেন ৪ লাখের মধ্যে ২ লাখ দেবেন। আমি তো শরীর খারাপ নিয়ে বারবার বলছি, অন্তত ২ লাখ দিন।
জীবনকৃষ্ণ: কোথায় পাব? আমার ঘরে খুঁজে দেখে নাও।
যাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে, তিনিই এভাবে উত্তর দিচ্ছেন— এমনটাই দেখা যাচ্ছে ভিডিওটিতে। সিবিআই-র অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নামে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন বিধায়ক।
এই ভিডিওকে হাতিয়ার করে বিজেপি ছেড়ে কথা বলছে না। তাদের বক্তব্য, জীবনকৃষ্ণ সাহা আগে থেকেই দালালি ও চাকরি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, আরও নানা জায়গায় এরকম করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তিনি বা তাঁর সহযোগীরা কেউই শেষ পর্যন্ত বাঁচবেন না।
অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, দল এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবে না।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। মুর্শিদাবাদের কান্দির আন্দি গ্রামে তাঁর বাড়ি ঘিরে গত সোমবার সকালে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দেখেই পিছনের দরজা দিয়ে পালাতে যান তিনি। এমনকি ধরা পড়ার আগে নিজের মোবাইল ফোনও ঝোপে ফেলে দেন বলে দাবি ইডির।
এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সিবিআই যখন তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল, তখনও দু'টি মোবাইল ফোন পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেবার ডুবুরি নামিয়ে উদ্ধার হলেও বিশেষ তথ্য মেলেনি। দীর্ঘ ১৩ মাস জেলে থাকার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পান তিনি। আদালত তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ফের অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে সোমবারও।