
শেষ আপডেট: 8 March 2023 07:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাততলা বাড়িটার বেসমেন্ট, একতলা এবং দোতলা প্রায় উড়ে গেছে মঙ্গলবারের বিস্ফোরণে। যেদিকে চোখ যায়, শুধুই ইট-সিমেন্টের ভাঙা চাঙড় আর ধুলো-ধোঁয়া। ধসে পড়েছে বেসমেন্ট থেকে উপরে ওঠার সিঁড়িটুকুও। আর সেই ধ্বংসস্তূপের দিকেই নিষ্পলক তাকিয়ে রয়েছেন সোহাগ। কে জানে, এই সিঁড়ির তলাতেই হয়তো চাপা পড়ে আছেন তাঁর ভাই মেহেদী। উদ্ভ্রান্তের মতো পুলিশকে বারবার সেই কথাই বলে যাচ্ছিলেন সোহাগ। হয়তো এখনও প্রাণটুকু রয়েছে শরীরে, কোনওভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানো গেলে জীবিত অবস্থাতেই পাওয়া যাবে মেহেদীকে!
মঙ্গলবার ছিল দোল উৎসব এবং শবেবরাত। রাজধানীর রাস্তায় তাই বেশ ভিড় ছিল। বিকেল তখন পৌনে ৫টা হবে, আচমকাই প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঢাকার (Dhaka Blast) গুলিস্তানের (Gulistan) সিদ্দিকবাজার এলাকা। বিআরটিসি বাস্ট্যান্ডের কাছে সেই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল ৬ জনের। তারপর যত সময় গেছে, লাফিয়ে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮। আহত শতাধিক। আহতদের বেশিরভাগকেই উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কিন্তু এখনও পর্যন্ত ৩ জনের খোঁজ মেলেনি। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন মেহেদী হাসান ওরফে স্বপন। এদিনের বিস্ফোরণে পাশাপাশি থাকা একটি সাততলা এবং একটি পাঁচতলা বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাততলা বিল্ডিংটির বেসমেন্টে বাংলাদেশ স্যানিটারি নামে একটি দোকান ছিল মেহেদীর। ঘটনার সময় দোকানেই ছিলেন মেহেদী। দুর্ঘটনার পর সেখান থেকে অনেকেই উদ্ধার করা হলেও স্বপনের খোঁজ মেলেনি এখনও। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বিল্ডিংয়ের বেসমেন্টে এখনও ঢুকেই উঠতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।
মেহেদী আদতে নোয়াখালীর বাসিন্দা। বাড়িতে দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। ছেলে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। মেয়ে আরও ছোট, ৬ বছর মাত্র বয়স। কাজের সূত্রেই ঢাকায় থাকতেন মেহেদী। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তিনি।
ভাইয়ের সন্ধানে বুধবার সকালে পড়িমড়ি করে সিদ্দিকবাজারের সাততলা বিল্ডিংয়ের সামনে এসে হাজির হয়েছিলেন সোহাগ। মোবাইলে মেহেদির ছবি খুলে দেখাচ্ছিলেন সকলকে, চোখে জল। ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে কাঁপা আঙুল তুলে দেখাচ্ছিলেন, 'এই সিঁড়িটার নীচেই আমার ভাইয়ের দোকান ছিল। ধ্বংসস্তূপ সরালে হয়তো ওকে পাওয়া যাবে।'
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন মমিনুদ্দিন নামে আরও একজন। আনিকা এজেন্সি নামে তাঁরও একটি স্যানিটারি সামগ্রীর দোকান ছিল ওই বিল্ডিংটির বেসমেন্টে। দোকানের কর্মী সম্রাটের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল মঙ্গলবারই। কিন্তু মমিনুদ্দিনের খোঁজ মেলেনি এখনও। তাঁর সন্ধানে তন্নতন্ন করে আহত এবং মৃতদের তালিকা ঘেঁটে ফেলেছেন বন্ধু ব্যবসায়ী মহম্মদ আরিফ। কিন্তু কোনও তালিকাতেই নাম পাননি মমিনুদ্দিনের। সোহাগের মতোই তাঁরও আশা, হয়তো বেসমেন্টেই ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকা পড়ে রয়েছেন তাঁর বন্ধু। উদ্ধারকাজ শুরু হলেই পাওয়া যাবে তাঁকে, আশায় বুক বাঁধছেন আরিফ।
জরায়ু থেকে বেরোল ১১ কেজির টিউমার, মৃতপ্রায় মহিলার জীবন ফেরাল মুম্বইয়ের হাসপাতাল