পরম বিশ্বাসে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ নৌকো করে মন্দিরে এসে পুজো দিতেন। আজও সেই ঐতিহ্য বহমান। এখনও সমুদ্রে যাওয়ার আগে মৎস্যজীবীরা নায়েকালীর আরাধনা করে তবেই রওনা দেন। ভক্তরা দেবীর জন্য ভোগ তৈরি করে নিয়ে আসেন। সেই রীতি এখনও অক্ষুণ্ণ।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 17 October 2025 17:28
অভিজিৎ মান্না, দিঘাঃ দিঘার লাগোয়া পূর্ব মুকুন্দপুর গ্রাম। একসময় ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চলে মানুষের ভরসার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিলেন মা নায়েকালী। স্থানীয়দের বিশ্বাস, দেবীর কাছে কোনও মনোবাঞ্ছা নিয়ে এলেই তা পূর্ণ হয়। তাই এই মন্দিরকে অনেকে সিদ্ধপীঠও বলেন।
এখানে নৌকোর উপর অধিষ্ঠিতা মা কালী। তাই নাম নায়েকালী। মন্দিরে পাথরের কালীমূর্তি স্থাপিত রয়েছে একটি ছোট নৌকার উপর। মন্দিরে কালীকে সিংহবাহিনী দুর্গার রূপে পুজো করা হয়, যা এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ, মা এখানে কালী ও দুর্গা—দুই রূপেই পূজিতা হন।কথিত আছে, অতীতে মন্দির ঘিরে ছিল গভীর জঙ্গল আর এক বিশাল খাল, যার জল ছিল নোনা। কিন্তু মন্দিরের আশপাশে মিলত মিষ্টি জল। পরম বিশ্বাসে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ নৌকো করে মন্দিরে এসে পুজো দিতেন। আজও সেই ঐতিহ্য বহমান। এখনও সমুদ্রে যাওয়ার আগে মৎস্যজীবীরা নায়েকালীর আরাধনা করে তবেই রওনা দেন। ভক্তরা দেবীর জন্য ভোগ তৈরি করে নিয়ে আসেন। সেই রীতি এখনও অক্ষুণ্ণ।
স্থানীয়দের পাশাপাশি দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকরাও ভিড় জমান এই প্রাচীন মন্দিরে। কালীপুজো উপলক্ষে মন্দির চত্বরকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে নতুন সাজে। পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর সময় যেমন বিশেষ আরাধনা হয়, তেমনি মন্দিরের বার্ষিক বড় পুজো অনুষ্ঠিত হয় দোলপূর্ণিমায়। জেলার ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতা ভাবনা মিলেমিশে গেছে নায়েকালী মাতার মন্দিরে।