মহারাষ্ট্রে মহানাটক, পরাজয় অনিবার্য বুঝে আস্থাভোটের আগেই ইস্তফা ফড়ণবীশ, অজিতের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আস্থাভোটে তাঁর পরাজয় যে অনিবার্য তার দেওয়াল লিখন গতকাল সন্ধ্যাতেই লেখা হয়ে গিয়েছিল মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের বলরুমে। যখন শিবসেনা-কংগ্রেস ও এনসিপি মিলে ১৬২ জন বিধায়ককে এক জায়গায় এনে ফেলেছিলেন।
ফলে মুম্বইতে আর মুখ পো
শেষ আপডেট: 26 November 2019 09:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আস্থাভোটে তাঁর পরাজয় যে অনিবার্য তার দেওয়াল লিখন গতকাল সন্ধ্যাতেই লেখা হয়ে গিয়েছিল মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের বলরুমে। যখন শিবসেনা-কংগ্রেস ও এনসিপি মিলে ১৬২ জন বিধায়ককে এক জায়গায় এনে ফেলেছিলেন।
ফলে মুম্বইতে আর মুখ পোড়াতে চাইল না বিজেপি। মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, কাল বুধবারই আস্থাভোট করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ-অজিত পাওয়ার সরকারকে। তার আগে এদিন দুপুরে প্রথমে ইস্তফা দেন অজিত পাওয়ার। তার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন দেবেন্দ্র ফড়ণবীশও।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করেন তখনও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র। তার পর তিনি বলেন, মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটে জনাদেশ বিজেপির অনুকূলে গিয়েছে। শিবসেনা যত আসনে লড়েছে তার মাত্র ৪৪ শতাংশ আসনে জিতেছে। বড় কথা হল, মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে ভোটের আগে শিবসেনার সঙ্গে আলোচনাই হয়নি। কোনও শর্তও ছিল না। কিন্তু ফল প্রকাশের পরই দরকষাকষি শুরু করে দেয় শিবসেনা। বিজেপি-র সঙ্গে কথা না বলে এনসিপি ও কংগ্রেসের সঙ্গেও তাঁরা কথা বলতে শুরু করে দেয়। যার মোদ্দা কারণ হল, লোভ। স্রেফ ক্ষমতা ও গদির লোভ।
দেবেন্দ্রর কথায়, বিজেপি-র কাঁধে চেপে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদ দখল করতে চেয়েছিল শিবসেনা। কিন্তু বিজেপি সেই অনৈতিক দাবি মানতে না চাওয়ায় ওরা এনসিপি-কংগ্রেসের সঙ্গে অশুভ আঁতাতেও দ্বিধা করেনি। আর কংগ্রেস-এনসিপি ভাবল এই তো মওকা বিজেপিকে আটকানোর। ফলে তারাও সেই টোপ লুফে নেয়। রাজনৈতিক মতাদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে গলায় গলায় বন্ধুত্ব শুরু হয়ে যায় তিন জনের। যে শিবসেনা নিজেদের হিন্দুত্ববাদী দল বলে দাবি করে তারা সনিয়া গান্ধীর পায়ে পড়তেও এখন রাজি। গতকালই দেখা গিয়েছে তারা সনিয়ার নামে শপথ নিচ্ছে।
দেবেন্দ্র এও জানান, এদিন সকালে অজিত পাওয়ার তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। অজিত দাদা জানান তিনি ইস্তফা দিতে চান। সুতরাং অজিত দাদার ইস্তফার পর আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তাই এই সাংবাদিক বৈঠকের পরই আমি রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। তাঁর সঙ্গে দেখা করে ইস্তফা পত্র পেশ করে দেব।
দেবেন্দ্র বলেন, আমরা ঠিক করেছি বিরোধী আসনে বসব। গঠনমূলক বিরোধিতা করব ও মানুষের কল্যাণের জন্য লড়াই করব।
যদিও পর্যবেক্ষকদের মতে, দেবেন্দ্রর এর অতিরিক্ত কিছু বলার ছিলও না। এমন নয় যে সবটাই তিনি বা তাঁরা নৈতিকতার সঙ্গে করেছেন। রাতের অন্ধকারে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠন করে ফেলা, সাত সকালে শপথ নেওয়া—এসবের মধ্যেই স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার অভাব ছিল। ইস্তফা দিয়ে আরও অস্বস্তির হাত থেকে রেহাই পেতে চাইলেন তিনি। এবং অবশ্যই তাঁর রাজনৈতিক গুরু নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ।