রাজস্থানে বাংলা ভাষাভাষিদের বাংলাদেশি বলে আটক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তার পরেই মুক্তি পেলেন আটক বাঙালিরা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 June 2025 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি?' আজ, মঙ্গলবার বিধানসভায় এমনই বিস্ফোরক প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজস্থানে বাংলাভাষী শতাধিক ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে আটকে রাখার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র কটাক্ষও করেন তিনি। এর ঠিক পরেই রাজস্থান থেকে ছেড়ে দেওয়া হল আটকে রাখা ওই বাঙালিদের।
প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রে বাংলা ভাষাভাষীদের আটকানোর ঘটনার আঁচ এখনও দগদগে। তার মধ্যেই নতুন করে একই অভিযোগ ওঠে রাজস্থানে। দিন কয়েক আগে, রাজস্থানে অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ জন বাঙালি ভাষাভাষী নাগরিককে আটক করা হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থেকে যাওয়া শতাধিক শ্রমিককে আটক করে রাখা হয়েছে বলেও খবর। অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে রাখা হচ্ছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে সরব হন।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে ধরা হচ্ছে! এটা আমরা কখনওই মেনে নেব না।”
এ নিয়ে কেন্দ্রকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে নির্দেশ দেন, রাজস্থান বা অন্য কোনও রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সাহায্য যেন নিশ্চিত করা হয়।
এর পরেই খবর আসে, মুক্তি পেয়েছেন ওই শ্রমিকরা।
এদিন বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “এই সরকার কি বাংলা ভাষাকে নিষিদ্ধ করতে চাইছে?” তিনি তুলনা টানেন দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে। বলেন, “তামিলনাড়ুতে অনেকে সিংহলী ভাষায় কথা বলেন, কেউ কেউ নেপালি ভাষাও বলেন। তাহলে কি তাঁদের শ্রীলঙ্কা বা নেপালে পাঠিয়ে দেওয়া হবে?”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বারবার দেখছি, বাংলা ভাষার সঙ্গে যেন এক অদৃশ্য শত্রুতা চলছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর আসছে। বাংলাকে বাদ দিয়ে কি ভারতবর্ষের ঐতিহ্য টিকবে?”
এখানেই শেষ নয়। কেন্দ্রের ‘ভাষা রাজনীতি’র বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি—তাঁরা সকলেই এই বাংলা ভাষাতেই কথা বলতেন!”
তাঁর মতে, “যদি শুধু বাংলা বলার অপরাধে কাউকে বাংলাদেশি বলে দাগানো হয়, তাহলে সেটা দেশের সংবিধানের অবমাননা। সংবিধান সকল ভাষার মর্যাদা দেয়—তার মধ্যে বাংলা অন্যতম।”
সব শেষে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই ঘটনা যদি বন্ধ না হয়, বাংলার মানুষের প্রতি এই অন্যায় যদি চলতেই থাকে, তাহলে আমরা কড়া আন্দোলনে নামব। বাংলাকে হেয় করার কোনও চেষ্টাই বরদাস্ত করব না।”
মনে করা হচ্ছে, এর পরেই নড়ে বসেছে কেন্দ্র, রাজস্থান সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, আটক শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়ার।