সরবরাহ কম নয়, উৎপাদনও আগের তুলনায় বেশি—তবু দাম কমছে না কেন? ঠিক এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 5 December 2025 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। কিন্তু বাজারে তার লেশমাত্র প্রভাব নেই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খুচরো বাজারে ডিমের দাম বজায় রেখেছে তার ‘আগুন’ মেজাজ—৮ টাকা বা তারও বেশি। পাইকারি বাজারে যেখানে প্রতি ডিম মিলছে ৬.৮০ থেকে ৭ টাকায়, সেখানে খুচরো দামে এই তফাৎ নিয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভও বাড়ছে।
সরবরাহ কম নয়, উৎপাদনও আগের তুলনায় বেশি—তবু দাম কমছে না কেন? ঠিক এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজতে নেমেছে প্রশাসন।
খামারিদের দাবি, দামের অস্থিরতার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় দায় ফিডের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি। মুরগির খাবারের মূল উপাদান—ভুট্টা, সয়াবিন মিল, মাছি–ভুসির দাম গত কয়েক মাসে আকাশছোঁয়া। তাঁদের বক্তব্য, উৎপাদন খরচ অন্তত ২০–৩০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। ফলে উৎপাদন বেশি হলেও খরচের চাপ এতটাই প্রকট যে, বাজারদরে তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
অন্য দিকে, প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, সমস্যা শুধু উৎপাদন ব্যয় নয়—পাইকারি ও খুচরো স্তরের দামের ব্যবধানও সন্দেহের তালিকায়। অনেক সময় বাজারে ‘আটকে রাখা’ সরবরাহ বা জোগানকে নিয়ন্ত্রণ করে দামের গতি প্রভাবিত করার অভিযোগও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব দিক খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই নজরদারি বাড়িয়েছে নবান্ন।
প্রতি বছর শীতের শুরুতেই ডিমের চাহিদা বাড়ে, দামও খানিক ওঠানামা করে। কিন্তু এ বছরের উল্লম্ফন সেই স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও দামের স্থির না থাকা তাঁদের কাছে বড় প্রশ্ন।
ইতিমধ্যেই প্রাণী সম্পদ দফতর জেলাগুলির আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে—কোথায় কত উৎপাদন, কোন বাজারে কী দামে বিক্রি হচ্ছে, ফিড–ব্যয়ের কতটা প্রভাব বাস্তবে পড়ছে—সব তথ্য সংগ্রহ করে পাঠানো হবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে।
ডিম সাধারণ মানুষের সবচেয়ে সহজলভ্য প্রোটিন। উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দামের আগুন নিভছে না কেন—সেই প্রশ্নের উত্তরের জন্য এখন অপেক্ষা তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের।