SIR-এর ASDD তালিকায় নাম থাকা ভোটাররাও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ভোট দিতে পারবেন বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 13 February 2026 00:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: SIR-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়েই প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এই ASDD তালিকা—অর্থাৎ মৃত, ভুয়ো, স্থানান্তরিত ও অনুপস্থিত ভোটারদের তালিকা—নিয়ে শুরু থেকেই বিস্তর বিতর্ক ও অভিযোগ ওঠে। তবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দফতর স্পষ্ট করেছে, এই তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরাও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ভোট দিতে পারবেন (West Bengal Election)।
CEO দফতরের জানানো অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনও ভোটার যদি ভোট দিতে চান, তা হলে তাঁকে যথাযথ প্রমাণপত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্রে হাজির হতে হবে। সেখানে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি জীবিত এবং তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য সঠিক রয়েছে। এরপর প্রিসাইডিং অফিসারের উপস্থিতিতে একটি ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মে দেওয়া তথ্য প্রিসাইডিং অফিসার যাচাই করবেন। তবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, পরে যদি প্রমাণ হয় যে কেউ ভুয়ো তথ্য দিয়ে ভোট দিয়েছেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে SIR-এর নথি যাচাই প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য রাজ্য সরকার ৮,৮০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসার দেওয়ার কথা জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টকে। নবান্ন ইতিমধ্যেই সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেয়। কিন্তু কমিশনের দাবি, ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৬,০০০ জন কাজে যোগ দিয়েছেন। এই ৬ হাজারের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন AERO রয়েছেন, যাঁরা বর্তমানে SIR সংক্রান্ত কাজেই যুক্ত।
পশ্চিমবঙ্গের SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আদালতের নির্দেশ ছিল, মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের পাশাপাশি রাজ্যের মনোনীত গ্রুপ-বি অফিসাররাও SIR-এর কাজে সহায়তা করতে পারবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে একমাত্র ERO-দের হাতে। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ৮,৮০৫ জন অফিসারকে কাজে যোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এখনও সব অফিসার দায়িত্ব নেননি। পাশাপাশি রাজ্যের পাঠানো তালিকায় অনেকেই প্রকৃত গ্রুপ-বি অফিসার নন বলেও অভিযোগ। কোন জেলায় কতজন নিয়োজিত হবেন, সে বিষয়ে জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) কাছে রিপোর্ট চাওয়া হলেও সেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও CEO দফতরে পৌঁছায়নি। এখনও পর্যন্ত শুধু দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ার জেলা থেকে রিপোর্ট জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর।