দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস বিধ্বস্ত চিনের উহান শহর থেকে ইতিমধ্যেই ভারতীয়দের উদ্ধার করে এনে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এয়ার ইন্ডিয়ার বিশাল এক বিমান উড়ে গেছিল বিশেষ টিম নিয়ে। নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছিল ৩০০-র উপর ভারতীয়কে। এবার সেই একই রকম উদ্ধারকাজের আবেদন এসেছে ইরান থেকে। কারণ সেখানেই আটকে রয়েছেন অন্তত আড়াইশো কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রী। চিনের পরেই করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক ভাবে থাবা বসিয়েছে এই ইরানেই।
ইরানের তেহরানের মেডিক্যাল কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য যান বহু কাশ্মীরি পড়ুয়া। এখন সে দেশে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৩। আক্রান্ত প্রায় ছ’শো। মারণ অসুখে আক্রান্ত সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট, উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। সংক্রমণের আশঙ্কায় বাতিল হয়ে গেছে একাধিক উড়ান। তাই আশঙ্কা সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীরা দেশে ফেরার জন্য আবেদন জানিয়েছে ভারত সরকারের কাছে।
তেহরান মেডিক্যাল কলেজের এক কাশ্মীরি ছাত্র উম পারভেজ বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চেষ্টা করছি দেশে ফেরার। কিন্তু উড়ান বাতিল, বন্ধ বিমানবন্দর। তাই বাইরেই অপেক্ষা করছি। জানি না কবে, কীভাবে বাড়ি ফিরব। দয়া করে আমাদের জন্য কিছু করুন। অন্তত একটা বিমানের বন্দোবস্ত করুন, যাতে আমরা ফিরতে পারি।”
কাশ্মীরের এক অভিভাবক জানালেন, তাঁর মেয়ে রয়েছে তেহরানে। তাঁর কথায়, "কোনও কাজে মন দিতে পারছি না, মেয়ের জন্য এত দুশ্চিন্তা হচ্ছে! উহানের মতো ইরান থেকেও ওদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।”
তবে সূত্রের খবর, শুধু পড়ুয়ারাই নয়, ইরানে তীর্থ করতে গিয়েও আটকে পড়েছেন কাশ্মীর, লাদাখের বেশ কয়েক জন বাসিন্দা। ইরানের ভারতীয় দূতাবাসে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত গদ্দাম ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, আটকে পড়া বাসিন্দাদের ভারতে ফিরিয়ে দিতে তাঁরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ইরানের অবস্থা ক্রমেই বিপজ্জনক হচ্ছে। এই অবস্থায় পড়ুয়াদের জন্য তাঁরাও চিন্তিত।