দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে রাজধানী দিল্লিতে আসার রাস্তাগুলির আশপাশে বড় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কৃষি আইনের প্রতিবাদে এদিন ৫০ হাজার কৃষক মিছিল করে ঢুকতে পারেন রাজধানীতে। যদিও কৃষক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, তাদের এমন কোনও পরিকল্পনা নেই।
দিল্লি পুলিশের এক কর্তা বলেন, গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষক নেতারা তাঁদের অনুগামীদের বলেছেন, সবাই যেন সিংঘু সীমান্তে পানিপথ টোল প্লাজার কাছে জড়ো হয়। সেখান থেকে কৃষকরা দিল্লিতে ঢোকার চেষ্টা করতে পারেন। কৃষক সংগঠনগুলির পোস্টারেও ডাক দেওয়া হয়েছে 'দিল্লি চলো'। পুলিশকর্তা জানান, দিল্লির প্রতিটি বর্ডার পয়েন্টে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিংঘু, টিকরি এবং গাজিপুরের যে এলাকায় কৃষকরা অবস্থান করছেন, সেখানেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে কৃষকদের অবস্থানের বিরুদ্ধে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। নয়ডার বাসিন্দা মণিকা আগরওয়াল শীর্ষ আদালতে আর্জি জানিয়ে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে চলা কৃষক আন্দোলনের জেরে লাগাতার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কৃষকরা তিন জায়গায় দিল্লি সীমান্ত অবরোধ করে বসে আছেন। অভিযোগ, আমজনতার ভোগান্তি বাড়ছে এতে। কর্মক্ষেত্রে পৌঁছতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। এভাবে চললে অর্থনীতিতে ধস নামবে।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট গত এপ্রিল মাসে জানায়, "বৃহত্তর সমস্যার সমাধান রাস্তা অবরোধ করে হয় না। এর জন্য বিচারবিভাগ, প্রশাসন এবং রাজনীতির দ্বারস্থ হতে হয়।" পরোক্ষে এই নিদান যে কৃষক আন্দোলনের উদ্দেশেই, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। কারণ, এর সঙ্গেই সুপ্রিম কোর্টের সংযোজিত নির্দেশ, যা-ই হোক না কেন, রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষের অসুবিধে ঘটানো অনুচিত।
আগরওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারকে জরুরি তলব করে। দিল্লির সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনও এতে নড়েচড়ে বসে।
গত সেপ্টেম্বরে সংসদে তিন কৃষি আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই কৃষকরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আইন মানতে তাঁরা নারাজ। পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকরা দিল্লির তিনটি সীমান্ত অঞ্চলে গিয়ে জড়ো হয়ে একটানা অবস্থান করে চলেছেন। বহু বাক-বিতন্ডার পরও এখনও অবধি তাঁদের দাবির কোনও মীমাংসা হয়নি।