দ্য ওয়াল ব্যুরো : "আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, দিল্লির মন্ত্রিসভা অযোধ্যাকে (Ayodhya) বিনামূল্যে তীর্থভ্রমণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছে"। বুধবার দিল্লি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানান, কোভিড অতিমহামারীর জন্য ওই প্রকল্প এখন বন্ধ আছে। এক মাসের মধ্যেই চালু হবে। অনলাইন সাংবাদিক বৈঠকে কেজরিওয়াল বলেন, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য পৃথক রেজিস্ট্রেশন উইন্ডো চালু করা হবে। রাজধানীর বয়স্ক বাসিন্দারা অযোধ্যায় গেলে তাঁদের যাতায়াতের খরচ, খাওয়া ও থাকার খরচ সরকার বহন করবে। তাঁদের যাতায়াতের সময় উপস্থিত থাকবে প্যারা মেডিক্যাল স্টাফ ও অ্যাটেনডেন্টরা।
সম্প্রতি অযোধ্যা ঘুরে এসেছেন কেজরিওয়াল। সেখানে তিনি বলেন, আম আদমি পার্টি যদি উত্তরপ্রদেশে সরকার গড়তে পারে, তাহলে সকলকে বিনামূল্যে অযোধ্যায় তীর্থভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে। উত্তরপ্রদেশে নির্বাচন হবে আগামী বছরে। দিল্লির 'মুখ্যমন্ত্রী তীর্থযাত্রা যোজনা'-য় রাজধানীর মানুষ বৈষ্ণো দেবী, শিরদি, রামেশ্বরম, দ্বারকা, পুরী, হৃষিকেশ, মথুরা ও বৃন্দাবনে তীর্থযাত্রার সুযোগ পান।
২০১৯ সালে এই প্রকল্প চালু করেন কেজরিওয়াল। সেই প্রকল্পে ৬০ বছরের বেশি বয়সীরা বছরে একবার বিনামূল্যে তীর্থভ্রমণের সুযোগ পান। তাঁদের এক সঙ্গীও বিনামূল্যে যাওয়ার অনুমতি পায়।
গত মার্চে দিল্লি বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের সময় কেজরিওয়াল বলেন, তিনি নিজে রাম ও হনুমানের ভক্ত। তাই দিল্লিবাসী প্রবীণদের বিনামূল্যে অযোধ্যার রামমন্দিরে তীর্থ করাতে নিয়ে যাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “অযোধ্যার রাজা ছিলেন শ্রীরাম। তাঁর সুশাসনে সাধারণ মানুষের কোনও দুঃখকষ্ট ছিল না। দিল্লিও তেমনই সুশাসনের পথে হাঁটবে। রাম রাজ্যের আদর্শ মেনে চলা হবে।”
কী সেই আদর্শ? কেজরিওয়ালের বক্তব্য, রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য দশ নীতি মেনে চলা শুরু করে দিয়েছে দিল্লি প্রশাসন। সেই নীতি কী কী? রাজ্যের সকলের মুখে খাবার উঠবে, শিক্ষায় অগ্রগতি হবে, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত হবে, বিদ্যুৎ ও জলের যোগান থাকবে পর্যাপ্ত, তাছাড়াও চাকরি, বাসস্থান, নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা এবং প্রবীণদের সম্মান, এইসবও জরুরি। গোটা দিল্লিই মেনে চলবে তার এই দশ নীতির আদর্শ।
২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের সাংবিধানিক বেঞ্চ। তারপর ট্রাস্ট তৈরি করে জমি হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সারতে সারতেই করোনা হানা দেয়। ফলে রামনবমীতে কোনও জাঁকজমক হয়নি মন্দির নগরীতে। শেষমেশ গত বছর ৫ অগস্ট বিধি মেনে রামমন্দিরের ভিত পুজো করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর কাজ শুরু হয়েছে। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট জানিয়েছে, মূল মন্দিরটি নির্মাণ করতে খরচ হবে ৩০০-৪০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে খরচ হবে ১১০০ কোটি টাকা।