
শেষ আপডেট: 17 July 2023 06:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল রাজধানী দিল্লির বিস্তীর্ন এলাকা। ফুঁসতে থাকা যমুনার জলে ভেসে গিয়েছিল দিল্লির ৬ জেলা। লালকেল্লা, কাশ্মীরি গেট, এমনকী সুপ্রিম কোর্ট চত্বরেও জল উঠে এসেছিল। বন্যাদুর্গত পরিবারগুলির জন্য ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা রবিবার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। যদিও রবিবার থেকেই একটু একটু নামতে শুরু করেছিল যমুনার জল। সোমবার শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, খুব শিগগিরই বিপদসীমার নীচে নেমে যাবে জলস্তর (Delhi flood latest update)।
রবিবার রাত ১১টা নাগাদ ওল্ড রেলগেট ব্রিজের কাছে যমুনার জলের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২০৫.৫০ মিটার। বিপদসীমা হল ২০৫.৩৩ মিটার। ফলে আর অল্প সময়ের মধ্যেই জলস্তর বিপদসীমার নীচে নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রবিবার রাত ৮টা নাগাদ জলস্তরের উচ্চতা ছিল ২০৫.৫৬ মিটার। দিল্লির রাজস্ব মন্ত্রী অতিশি জানিয়েছেন, যাঁরা বন্যার কারণে গৃহহীন, তাঁদের জন্য জায়গায় জায়গায় ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। 'এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ হল সব কিছু যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা,' জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, পাম্প বসিয়ে জল ছেঁচে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে, তবে এখনও বেশিরভাগ রাস্তাই জলমগ্ন হয়ে রয়েছে।
অতিশি, দিল্লির লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকে সাক্সেনা, এবং মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) রবিবার রাজঘাট, শান্তিবন এবং লালকেল্লা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারপরেই কেজরিওয়াল জানান, বন্যাকবলিত পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। সন্ধ্যা ৭.১১ মিনিটে এটি টুইট করেন কেজরিওয়াল। সেই টুইটে তিনি লেখেন, ‘যমুনার তীরে অজস্র দরিদ্র মানুষের বাস ছিল, যাঁরা বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিছু কিছু পরিবারের তো সর্বস্ব ভেসে গেছে বন্যার জলে।’
এরপর তিনি আরও লেখেন, প্রতিটি বন্যা দুর্গত পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া যাঁরা, ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প খোলা হবে। যে সমস্ত শিশুদের বই-খাতা এবং স্কুলের পোশাক জলে ভেসে গেছে, স্কুলের হয়ে সরকার তা সরবরাহ করবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭১ সালে শেষবার এমন বিধ্বংসী বন্যা হয়েছিল দিল্লিতে (Delhi flood)। ৪৫ বছর আগের সেই বন্যায় প্রায় একই রকম ফুঁসে উঠেছিল যমুনা। তবে এবারের পরিস্থিতি আরও ভয়ানক। প্রবল বন্যায় রিং রোডের সিভিল লাইন, মঞ্জু কা টিলা, কাশ্মীরি গেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই এলাকা মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে। কাশ্মীরি গেট লাগোয়া এলাকাতেই রয়েছে দিল্লি বিধানসভা। বোট ক্লাব, মনস্ট্রি মার্কেট, যমুনা বাজার, গীতা ঘাট, খাড্ডা কলোনি, থেকে শুরু করে ওয়াজিরাবাদ, ময়ূর বিহার, সব এলাকাই জলমগ্ন। তবে আজ রবিবার খানিকটা নেমেছে যমুনার জলস্তর। যদিও এখনও পর্যন্ত তা বিপদসীমার উপরেই রয়েছে। তবে রাতের মধ্যে জল আরও একটু নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিপদে উত্তরাখণ্ড, ফুঁসছে গঙ্গা, বন্ধ হল বদ্রীনাথ জাতীয় সড়ক, রাজ্যজুড়ে জারি সতর্কতা