দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাস খানেক আগে জানতে পেরেছিলেন স্বামী ডিভোর্সি। তারপর থেকেই অবসাদে ভুগতেন দিল্লির বিমানসেবিকা অ্যানিসিয়া বাত্রা। পুলিশের অনুমান এর জেরেই ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন তিনি।
গত শুক্রবার ১৩ জুলাই দক্ষিণ দিল্লির পঞ্চশীল পার্কের কাছে নিজের বাড়ির ছাদ থেকেই ঝাঁপ দেন ফরাসি বিমানসংস্থার বিমানসেবিকা অ্যানিসিয়া বাত্রা। প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনা আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃতার পরিবারের দাবি ছিল খুন করা হয়েছে তাঁকে। এমনকী অ্যানিসিয়ার বন্ধুরাও জানিয়েছেন তিনি যথেষ্ট শক্ত মনের মেয়ে। হঠাৎ এ ভাবে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মেয়ে তিনি নন।
২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মায়াঙ্ক সাংভির সঙ্গে বিয়ে হয় অ্যানিসিয়ার। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে অ্যানিসিয়ার উপর মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার চালাতেন তিনি। শুধু তাই নয়। অত্যাচার চলত অ্যানিসিয়ার বাবা-মায়ের উপরেও। ওই বিমানসেবিকার ভাই জানিয়েছেন, মারা যাওয়ার আগে তাঁদের মেসেজ করেছিলেন তাঁর দিদি। লিখেছিলেন মায়াঙ্ক তাঁকে ঘরে আটকে রেখেছে। অ্যানিসিয়া আরও বলেছিলেন, তাঁর এই অবস্থার জন্য মায়াঙ্কই দায়ী। সে যেন কিছুতেই নিস্তার না পায়।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশে অভিযোগ জানালেও পুলিশ মায়াঙ্ককে গ্রেফতার করেনি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মৃত বিমানসেবিকার পরিবার। এরপর সোমবার মায়াঙ্ককে আটক করে পুলিশ। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশও দিয়েছে। তবে মায়াঙ্ককে গ্রেফতারের পরেও পুলিশের উপর থেকে ক্ষোভ যায়নি বাত্রা পরিবারের। অভিযোগ, অ্যানিসিয়ার ময়নাতদন্ত নিয়েও তাঁদের বিভ্রান্ত করেছে পুলিশ। এমনকী তাঁর শেষকৃত্যের দিনেই আদালতে মায়াঙ্কের শুনানির দিন ফেলা হয়।
অ্যানিসিয়ার ভাইয়ের দাবি, পুলিশ আগে থেকেই জানত দুপুর ১২টায় অ্যানিসিয়ার শেষকৃত্য হবে। সেই অনুযায়ী দুপুর দু'টোয় ছিল শুনানির সময়। কিন্তু আচমকাই সাড়ে এগারোটা নাগাদ তাঁদের খবর দেওয়া যে শুনানির সময় এগিয়ে দুপুর ১২টা হয়ে গিয়েছে। দিদিকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ পাননি অ্যানিসিয়ার ভাই।
মায়াঙ্কের পাশপাশি তাঁর মা-বাবার প্রতিও অভিযোগ এনেছে বাত্রা পরিবার। তাঁদের দাবি, অ্যানিসিয়ার মৃত্যুর জন্য তাঁরাও সমানভাবে দায়ী। পুলিশ জানিয়েছে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তারা। মায়াঙ্কের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। অ্যানিসিয়া কি সত্যিই ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি খুন করা হয়েছিল তাঁকে সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।