মৃতের নাম সাদ্দাম হোসেন (২৪)। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে করলেও পরিবারের দাবি, সাদ্দামকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

চেন্নাইতে মৃত্যু বাংলার শ্রমিকের
শেষ আপডেট: 13 August 2025 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেন্নাইয়ে কাজে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Worker Deadbody)। ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে তাঁর। মৃতের নাম সাদ্দাম হোসেন (২৪)। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে করলেও পরিবারের দাবি, সাদ্দামকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) হরিহরপাড়া থানার স্বরূপনগর গ্রামে। তিন মাস আগে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজের জন্য তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে যান। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহের ছবি। খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন মা, স্ত্রী ও আত্মীয়রা।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ সোমবার সন্ধেয় মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন সাদ্দাম। মৃতের মা জানিয়েছেন, "ছেলে ফোন করে বলেছিল, মা, আজ টাকা পেয়েছি, কিন্তু ব্যাংকে পাঠাতে পারছি না। আধার কার্ডের কপি পাঠিয়ে দিও। এরপর আর কথা হয়নি।" জানা গেছে, রাতে স্ত্রী একাধিকবার ফোন করলেও সাদ্দাম ফোন ধরেননি। একবার ফোন রিসিভ করলেও সঙ্গে সঙ্গে কেটে দেন।
মঙ্গলবার সকালে ঠিকাদার ফোন করে জানায়, সাদ্দাম আর নেই। সঙ্গে তাঁর ঝুলন্ত দেহের ছবিও পাঠায়। ছবিতে দেখা যায়, মাটিতে তাঁর পা লেগে আছে, যা দেখে প্রতিবেশীরা প্রশ্ন তুলেছেন, 'কীভাবে মৃত্যু হল?'
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চেন্নাই পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। পরিবার ও গ্রামবাসীরা স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে দ্রুত দেহ ফেরানোর আবেদন করেছেন।
গত বেশ কয়েকদিন ধরেই ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে হেনস্থার শিকার হতে হয় এক পরিযায়ী শ্রমিককে। বাংলা ভাষায় কথা বলার অভিযোগেই তাঁকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ, এমনই অভিযোগ পরিবারের। টাকি পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজীব শেখ পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক, গত পাঁচ বছর ধরে তামিলনাড়ুর পেরেমবালা এলাকায় কাজ করছেন।
পরিবার সূত্রে খবর, গত ২২ জুলাই হঠাৎ করেই রাজীব শেখ ও আরও কয়েকজনকে আটক করে স্থানীয় পেরেমবালা থানার পুলিশ। প্রথম কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ ছিল রাজীব শেখের। এরপর হঠাৎই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। থানার পক্ষ থেকে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র চাওয়া হলে সমস্ত কাগজপত্র পাঠিয়ে দেয় পরিবার। তবুও এখনও ছাড়া পাননি রাজিব। ইতিমধ্যেই কেটে গিয়েছে ২১ দিন।