রবিবার সকালে দার্জিলিঙের সাংসদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তিনি।

শেষ আপডেট: 5 October 2025 22:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক রাতের অবিরাম বর্ষণ - তাতেই দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জনজীবন বিপর্যস্ত। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে ‘রাজ্য বিপর্যয়’ ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন দার্জিলিঙের সাংসদ ও বিজেপি নেতা রাজু বিস্তা। সেই দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে সাংসদ লিখেছেন, অতিভারী বৃষ্টিতে দার্জিলিংয়ের পার্বত্য অঞ্চল, তরাই ও ডুয়ার্স এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে, ভেঙে গিয়েছে সড়ক ও সেতু। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলের এই বিপর্যয়কে ‘রাজ্য বিপর্যয়’ ঘোষণা করলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য ও ক্ষতিপূরণের পথ আরও সহজ হবে বলে মত তাঁর।
রাজুর দাবি, ২০২৩ সালের তিস্তা বন্যার সময় রাজ্য সরকার ‘বিপর্যয়’ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, ফলে বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা পাননি। সেই ভুল যেন আর না হয়, সেই আর্জিই তিনি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তাঁর আশা, মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের দিকেও দ্রুত পদক্ষেপ করবেন।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে রাতারাতি বিধ্বস্ত হয়েছে দার্জিলিং ও কালিম্পং। বহু এলাকায় ধস নেমে বন্ধ জাতীয় ও রাজ্য সড়ক। তিস্তার জল উঠে এসেছে এনএইচ-১০-এর উপরেও। জিটিএ সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত বহু, আর নিখোঁজও অনেকেই। রবিবার সকাল থেকে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল। তাদের সঙ্গে রয়েছে সেনা ও পুলিশও।
রবিবার সকালে দার্জিলিঙের সাংসদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তিনি এবং জানান, প্রয়োজনে উত্তরবঙ্গে আরও এনডিআরএফ দল পাঠানো হবে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই তাদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নবান্নের কন্ট্রোলরুম থেকে রবিবার সকাল থেকেই তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সোমবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরবঙ্গ রওনা হবেন মুখ্যমন্ত্রী। শিলিগুড়ি থেকেই তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের উপর নজর রাখবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, রবিবারই দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা বিপর্যস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে তিনি মিরিকের অন্তর্গত দুধিয়া এলাকায় যান, যেখানে একটি সেতু ভেঙে পড়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।