দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন মজুরিতে আয় বড় কম। বাড়িতে যে ক’টা পয়সা নিয়ে আসতেন সোহন লাল, তার সিংহভাগই খাওয়া আর বিদ্যুতের বিল দিতে খরচ হয়ে যেত। একটেরে ছোট্ট ঘরে তিন জনের সংসার। বেশিরভাগ সময়েই আলো নিভিয়ে খরচ বাঁচানোর চেষ্টা। এমন অভাবের সংসারে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখাটা বিলাসিতা। তবুও স্বপ্ন দেখেছিল ছেলেটা। আইএএস হওয়ার স্বপ্ন। তার প্রথম ধাপে ইতিমধ্যেই পা রেখে ফেলেছে সে। প্রবেশিকা পরীক্ষায় তুখোড় ফল করে ভর্তি হয়েছে দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। কিশোরের এই স্বপ্নের উড়ানে সঙ্গী হয়েছেন দিল্লি হাউজিং ফিনান্স কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান রাজেশ গয়াল।
ধরমপুরের পুরনো একটি কোয়ার্টারে একটাই ঘর অমরজিতদের। বাবা সোহন লালা দিনমজুরি করেন। মা কবিতা ঘর সামলান। ছোট থেকে পড়াশোনাই ধ্যানজ্ঞান ছিল অমরজিতের। স্কুলের মেধাবী ছাত্র অমরজিতের আকাশছোঁয়া স্বপ্নকে ভয় পেতেন বাবা। তবে সুযোগ এসে যায় হাতের মুঠোয়। সোহন লাল জানিয়েছেন, দিল্লি সরকারের ‘জয় ভীম মুখ্যমন্ত্রী প্রতিভা বিকাশ যোজনা’-র অধীনে বিনামূল্যে এনআইটি-র প্রবেশিকা পরীক্ষার কোচিং পায় অমরজিৎ। এই প্রকল্পের আওতায় সচদেব নিউ পিটি কলেজে শুরু হয় তার জার্নি।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে সুযোগ মেলার পরে ফের হতাশা গ্রাস করে অমরজিতের পরিবারকে। এ বার তাহলে কী হবে? ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার খরচ বিস্তর। পাশাপাশি আইএএস হওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে অমরজিতের। তার জন্যও চাই উচ্চমানের প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে যা খরচ হবে, সোহন লালের মাসের আয় তার সিকিভাগও নয়। তবে এই হতাশার মেঘও কেটে যায়। দুঃস্থ পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ান দিল্লি হাউজিং ফিনান্স কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান রাজেশ গয়াল। তিনি জানিয়েছেন, এনআইটি-তে পড়ার খরচ এবং আইএএসের কোচিং, সব মিলিয়ে বছরে এক লক্ষ টাকা করে অমরজিতের পরিবারের হাতে তুলে দেবেন তিনি। রাজেশ গয়ালের কথায়, “অর্থের মাপকাঠি দিয়ে মেধার বিচার হয় না। অভাব স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ঠিকই, তবে অমরজিতের মতো প্রতিভারা যেন হারিয়ে না যায়, সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।”
২০১৭ সাল থেকে দুঃস্থ, মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য ‘জয় ভীম মুখ্যমন্ত্রী প্রতিভা বিকাশ যোজনা’চালু করেছে দিল্লির আম আদমি সরকার। মূলত তফসিলি জাতি-উপজাতি পড়ুয়াদের নামী প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ দিতেই বিনামূল্যে এই কোচিং সেন্টার চালু হয়। ‘জয় ভীম মুখ্যমন্ত্রী প্রতিভা বিকাশ যোজনা’-র প্রথম ব্যাচে ৪,৯৫৩ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ছিল অমরজিতও। দিল্লি সরকারের বিনামূল্যে কোচিংয়ের সুবিধা পেয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লি আইআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছে দর্জির ছেলে বিজয় কুমার। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে জানিয়েছিলেন, তাঁর নিজের ছেলের সঙ্গেই আইআইটিতে এক ক্লাসে পড়াশোনা করবে বিজয়। উল্লেখ্য, দিল্লির সরকারের বিনামূল্যে কোচিংয়ের সুবিধা নিয়ে চলতি বছরে ৩৫ জন পড়ুয়া জয়েন্ট এন্ট্রান্স ও নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।