গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে এসআইআরের কাজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। এনুমারেশন ফর্ম বিলি এবং সংগ্রহের কাজ ৪ ডিসেম্বর শেষ হবে। তবে এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক বিএলও এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

মনোজ পন্থ
শেষ আপডেট: 22 November 2025 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার নবান্নে (Nabanna) জেলাশাসকদের (DMs) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (CS Manoj Pant)। সেই বৈঠক থেকে তিনি একটি জিনিস স্পষ্ট করে দেন - অন্য কোনও কাজের জন্য রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজে কোনও খামতি রাখা যাবে না। এক্ষেত্রে তিনি 'অন্য কাজ' বলতে যে এসআইআর-এর (SIR) কথা বলেছেন তা মনে করা হচ্ছে।
শনিবারের বৈঠকে মূলত রাজ্যের ১৫ টি দফতরের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়। বাংলার বাড়ি, পথশ্রী সহ এইসব প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি যেন স্লথ না হয়ে যায়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ মুখ্যসচিবের।
নবান্ন সূত্রে খবর, জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যসচিব পন্থ (Manoj Pant) নির্দিষ্ট করে বলেন, 'আমার পাড়া আমার সমাধান' কর্মসূচিতে যে বিষয়গুলি এসেছে সেই কাজগুলি দ্রুত শেষ করে রিপোর্ট দিতে হবে। তাছাড়া, 'বাংলার বাড়ি' (Banglar Bari) প্রকল্পে সঠিকভাবে ন্যায্য উপভোক্তাদের তালিকা অনুযায়ী অতিরিক্ত নজর দিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর নির্দেশ, গ্রামীণ রাস্তার কাজ ফেলে রাখা যাবে না।
গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে এসআইআরের (SIR) কাজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। এনুমারেশন ফর্ম বিলি এবং সংগ্রহের কাজ ৪ ডিসেম্বর শেষ হবে। তবে এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) একাধিক বিএলও এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, এগুলি ঘটছে এসআইআর আতঙ্কে। আর এর দায় নিতে হবে কমিশনকে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) এসআইআর ইস্যুতে সরাসরি চিঠি লেখেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে (ECI)।
এদিকে আজকের বৈঠকে মৃত বিএলও-দের (BLO) পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যসচিব। বৈঠকে জেলাশাসকদের তাঁর বার্তা, এসআইআরের (SIR)-এর কারণে বিএলও-রা (BLO) সহ যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের পাশে থাকতে হবে।
শনিবারই নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সুইসাইড নোটে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে আত্মঘাতী হন বিএলও রিঙ্কু তরফদার (৫৪)। পেশায় পার্শ্বশিক্ষক রিঙ্কু চাপড়া বাঙালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরে পড়াতেন এবং চাপড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন। এই ঘটনার কথা তুলে ধরেই কমিশনকে বিঁধে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর কত মৃত্যু হলে হুঁশ ফিরবে - এই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী (CM) সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “একজন মহিলা প্যারা-শিক্ষিকার (Teacher) এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পরপর বিএলও মারা যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের জীবনরক্ষা করা।”
তবে বিএলও-দের চাপের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানিয়ে দিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে, ফলে চাপ থাকবেই। পাশের রাজ্য বিহারেও এসআইআর হয়েছে। এ রাজ্য পারবে না, এমন নয়।