দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতি শীতে কম করে দু থেকে তিন ফুট পুরু বরফের চাদরে ঢেকে যায় শহর। কম করে দু’মাস থাকে এমন অবস্থা। তার পরেই আকাশ পরিষ্কার হয়। খুলে যায় টুরিস্টদের মরসুম। সারা দেশের তো বটেই, দেশের বাইরে থেকেও বহু ভ্রমণপ্রিয় মানুষ খুঁজে নেন ছুটির ঠিকানা।
এ বার ব্যতিক্রম ঘটেছে। বরফ প্রায় পড়েইনি। ফলে ভরে ওঠেনি জলের প্রাকৃতিক উৎসগুলি। আর তার জেরেই তীব্র জলকষ্ট শুরু হয়েছে হিমাচলের অন্যতম ভ্রমণ-শহর শিমলায়। এই জলে সঙ্কটের কারণে কার্যত টুরিস্টশূন্য অবস্থা হয়েছে শিমলার। শুধু স্থানীয় অসুবিধা নয়, দেশের অন্যতম বিখ্যাত এই হিলস্টেশনে জলসঙ্কটের কথা ছড়িয়ে গিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, “বয়কট শিমলা” পোস্ট। এই মরসুমে শিমলায় আসা টুরিস্টদের উপর রাজ্যের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভর করায় পরিস্থিতি বেশ বিপাকে ফেলেছে প্রশাসনকে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, শিমলায় জলের মূল উৎস দু’টো। গিরি প্রকল্প এবং প্রাচীন গুম্মা প্রকল্প। গিরি প্রকল্প থেকে প্রতিদিন দু’কোটি লিটার জল আসার কথা। আর গুম্মা প্রকল্প থেকে প্রতিদিন দু’কোটি দশ লক্ষ লিটার জল আসার কথা। কিন্তু এখন গিরি থেকে জল আসছে প্রতিদিন ৯৭ লক্ষ লিটার, অর্ধেকেরও কম, এবং গুম্মা থেকে প্রতিদিন জল মিলছে ১ কোটি লিটার। শিমলা শহরে দু’লক্ষেরও বেশি মানুষ থাকেন। পিক সিজনে এ শহরে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যটক আসেন। সপ্তাহান্তে এ সংখ্যাটা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত দাঁড়ায়। ফলে এই অবস্থায় জলসঙ্কটের তীব্রতায় হাঁসফাঁস দশা শহরের।
কিন্তু কেন এমন অবস্থা?
শিমলার বাসিন্দা, অনিল বোধ বলছেন, “এ বছরে বরফ প্রায় পড়েইনি। এখন, জুন মাস হয়ে গেল, বৃষ্টিও নামছে না। ফলে জলের উৎসগুলো প্রায় শুকনো। অনেক দূর থেকে রোজকার ব্যবহারের জল আনতে হচ্ছে বয়ে। পানীয় হিসেবে প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার ছাড়া উপায় নেই।” তবে শুধু আবহাওয়া-জলবায়ু নয়, বেশ কিছু ম্যানমেড কারণও আছে। শহরবাসীর অভিযোগ, অনেক হোটেল অতিরিক্ত জল নিয়ে নিচ্ছে। শহর ছেয়ে যাচ্ছে বেআইনি নির্মাণে। যত্রতত্র হোম স্টে তৈরি হওয়াও জলসঙ্কটের একটি অন্যতম কারণ।
চলতি সপ্তাহেই হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট ঘোষণা করেছে, জল সরবরাহের ক্ষেত্রে ভিআইপিদের জন্যও কোনও বিশেষ ব্যবস্থা করা যাবে না। এই ভিআইপিদের মধ্যে যেমন মন্ত্রী, বিধায়ক, পুলিশ অফিসাররা পড়বেন, তেমনই পড়বেন বিচারকরাও। একই সঙ্গে আদালত জানিয়ে দিয়েছেন, শিমলার মূল শহরে আগামী এক সপ্তাহ সমস্ত রকমের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। এমনকী চলবে না গাড়ি ধোয়াও।
এই অবস্থায় খুব স্বাভাবিক ভাবেই অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে টুরিস্টদের জন্য। কার্যত ফাঁকা শিমলায় ক্ষতির খতিয়ান গুনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।