অভিযোগ, থানায় যাওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবে ঠিকাদারের চারজন লোক তাঁকে ধরে কান কেটে দেয়। সেখান থেকে কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান তিনি। ভর্তি হন স্থানীয় এক হাসপাতালে।

আক্রান্ত রাহুল সিং।
শেষ আপডেট: 13 August 2025 20:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৃশংসতা, বর্বরতা, পৈশাচিকতা, কোনও শব্দই যথেষ্ট নয়। মুম্বইয়ের (Mumbai) মালাটে কাজ করতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হতে হল এক বাঙালি শ্রমিককে (Migrant Worker)। মজুরি বাবদ পাওনা টাকা চাওয়াই হয়ে দাঁড়াল ‘অপরাধ’। অভিযোগ, এর জেরেই ঠিকাদার সংস্থার লোকজন তাঁর দু’টি কান কেটে দেয়।
আক্রান্ত রাহুল সিং, বীরভূমের নলহাটি (Birbhum) পুরসভার বাসিন্দা। অভিযোগ, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে এক ঠিকাদার সংস্থার অধীনে শ্রমিকের কাজে যান তিনি। কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে চেয়ে নিজের প্রাপ্য ২০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন ঠিকাদারের কাছে। সেই টাকা না পেয়ে থানায় অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু, রাহুলের সেই সাহসই হয়ে ওঠে কাল। অভিযোগ, থানায় যাওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবে ঠিকাদারের চারজন লোক তাঁকে ধরে কান কেটে দেয়। সেখান থেকে কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান তিনি। ভর্তি হন স্থানীয় এক হাসপাতালে।
রাহুলের কথায়, “ভয়ে কোনওমতে পালিয়ে এসেছি। ব্যাগে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ছিল, সব ফেলে এসেছি। মোবাইল তো আগেই নিয়ে নিয়েছিল ওরা।”
চিকিৎসার পর বর্তমানে নলহাটিতে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। কানদুটি আর জোড়া লাগেনি।
Jরাহুলের মায়ের কণ্ঠে অসহায়তা, “পাঁচ-ছ’টা ছেলে মিলে এই কাণ্ড করেছে। আমার হাতে টাকা নেই। ছেলেকে দেখে কিছুই বুঝতে পারছি না, কী করব!” বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
বাঙালি শ্রমিকদের উপর ভিন রাজ্যে এমন নির্যাতনের ঘটনা একাধিকবার সামনে এসেছে। বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে হেনস্থা, পুলিশের হয়রানি, এবার আবার যোগ হল শারীরিক অঙ্গচ্ছেদের অভিযোগ।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সংসদেও এই ইস্যু নিয়ে সরব হতে চলেছে তৃণমূল। প্রশ্ন একটাই, 'মজুরি চাওয়া কি তবে অপরাধ? অভিযুক্তদের কি যথাযথ সাজা হবে?'