বংশীহারি থানার সামনে পিকেটিংয়ে বসেন সিপিএম কর্মীরা। সেই অবস্থান ভাঙতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেই উত্তেজনা ছড়ায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 July 2025 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট (Bandh) চলছে। শ্রমিক ও কৃষক-বিরোধী কেন্দ্রীয় নীতির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি করছে বাম কর্মী-সমর্থকরা। স্বাভাবিকভাবে সকাল থেকে জেলায় জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছবি ধরা পড়েছে ধর্মঘটকে ঘিরে। পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তো প্রশ্ন তোলাই হয়েছে। তবে বুনিয়াদপুরের (Buniyadpur) ঘটনায় আরও বিতর্ক।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে পুলিশের সঙ্গে সিপিএম কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, এর মধ্যেই এক সিপিএম নেতাকে (CPM Leader) সপাটে চড় মারে পুলিশ। তারপর তাঁকে আটক করা হয়। বাম নেতাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বংশীহারি থানার আইসি-র (Bangshihari PS IC) বিরুদ্ধে।
সোমবার সকাল থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথে নামে বামপন্থীরা। বংশীহারি থানার সামনে পিকেটিংয়ে বসেন সিপিএম কর্মীরা। সেই অবস্থান ভাঙতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেই উত্তেজনা ছড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বংশীহারি থানার আইসি অসীম গোপ ও সিপিএমের এরিয়া কমিটির সদস্য মাজেদুর রহমানের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। তার জেরেই মাজেদুরকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারেন আইসি। মুহূর্তে বিক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এরপর ওই সিপিএম নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাম কর্মীরা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, “গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশের এই রকম আচরণ চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক। একজন রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে চড় মারা এবং আটক করা রাজ্যের ‘গণতন্ত্র’-এর আসল চেহারা।”
ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বুনিয়াদপুর এলাকায়। বাম নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পুলিশের তরফে যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সকালে সংবাদ শিরোনামে এসেছে কলকাতার গাঙ্গুলিবাগানের ঘটনা। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে বাম কর্মী-সমর্থকদের কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। অভিযোগ, একের পর এক দোকানে ঢুকে শাটার নামিয়ে দেওয়া হয়। সৃজনকে চ্যাংদোলা করে এলাকা থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। ধাক্কাধাক্কিতে সৃজনের পরনের শার্ট ছিঁড়ে যায়। এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দাবি, তিনি আহত হয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে বনধ সমর্থনকারী এক মহিলাও অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে খবর।