বুধবার বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ভোটারদের হয়রানি এবং পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে টি-বোর্ডের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়।

বামেদের অবস্থানে পিয়ালী বসাক
শেষ আপডেট: 5 March 2026 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে এসআইআরের ভোটার তালিকা (West Bengal SIR Final Voter List) নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। সেই আবহে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের (CEO Office) সামনে রাতভর অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে বামফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা (CPIM Protest)। তাঁদের দাবি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশন গ্রহণ করতে হবে। সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বাম নেতৃত্ব।
এই কর্মসূচিতে এদিন যোগ দেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী পিয়ালী বসাকও (Piyali Basak)। ভোটার তালিকা সংশোধনের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জনগণের করের টাকায় নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা বেতন পান। অথচ এখন বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে। পিয়ালীর প্রশ্ন, গত পাঁচ বছরে সাধারণ মানুষের করের টাকায় ঠিক কী কাজ হয়েছে? তাঁর মতে, এভাবে মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা চলতে পারে না।
বুধবার বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ভোটারদের হয়রানি এবং পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে টি-বোর্ডের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। সেখান থেকে মিছিল করে নেতা-কর্মীরা নির্বাচন দফতরের সামনে পৌঁছন। ওই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তীর মতো বাম নেতৃত্ব।
তবে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়নি। সেই কারণেই দফতরের সামনেই অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাম নেতৃত্ব। যতক্ষণ পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা না হবে, ততক্ষণ আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে বুধবার সন্ধেয় রাস্তার ওপরই অবস্থান শুরু হওয়ায় নির্বাচন দফতরের সামনে পৌঁছে যায় কলকাতা পুলিশের বড় বাহিনী। ঘটনাস্থলে আনা হয় প্রিজন ভ্যানও। বিবাদী বাগ এলাকায় রাস্তা অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পুলিশের তরফে আন্দোলনকারীদের স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়।
এক পুলিশকর্মী এসে মহম্মদ সেলিমকে উঠে যেতে অনুরোধ করলে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে চলে সেই টানাপড়েন। একদিকে ছিলেন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অন্যদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। যদিও তাঁরা সরাসরি মুখোমুখি হননি, দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলতে থাকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে।
পুলিশের যুক্তি ছিল, পুরো রাস্তা জুড়ে অবস্থান করা যাবে না। যান চলাচলের সুবিধার জন্য অন্তত একটি লেন ফাঁকা রাখতে হবে। তবে বাম নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগে প্রিজন ভ্যান সরাতে হবে। তা না হলে রাজভবনের সামনে বা অন্য ধর্নাস্থলে গিয়ে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে রাস্তার এক লেন দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল শুরু হয়। অপর লেনজুড়ে আন্দোলনকারীরা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারও বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছে বাম নেতৃত্ব।