
শেষ আপডেট: 31 March 2020 18:30
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, দেশে এখন ভেন্টিলেটরের সংখ্যা ৪৮ হাজার। তার মধ্যে অনেকগুলোই অকেজো। সংক্রামিতদের সংখ্যা যদি বাড়ে তাহলে রোগীদের পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর দেওয়ার মতো পরিকাঠামো কোনও হাসপাতাল-নার্সিংহোমেই নেই। এদিকে চিন্তার বিষয় হল, করোনা আক্রান্ত ছ’জন রোগীর মধ্যে একজনই ভোগেন তীব্র শ্বাসকষ্টে, বাকিদের ফুসফুস কাজ করাই বন্ধ করে দেয়। তখন রোগীদের বাঁচাতে দ্রুত ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করতে হয়। দেশে মাত্র দুটি সংস্থা বানায় এই ভেন্টিলেটর। তাও সেই ভেন্টিলেটরের প্রতিটার দাম দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি। আগভা হেলথকেয়ার জানিয়েছে, কম খরচে তারা ২০ হাজার ভেন্টিলেটর সরবরাহ করতে পারবে। চিন থেকেও ১০ হাজার ভেন্টিলেটর চেয়ে পাঠিয়েছে ভারত।
বেঙ্গালুরু জয়দেব ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাস্কুলার সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চের কার্ডিওলজিস্ট ডাক্তার দীপক পদ্মনাভন বলেছেন, এই ভেন্টিলেটর দু’রকমের হয়। মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর যার খরচ বেশি এবং নন-ইনভ্যাসিভ ভেন্টিলেটর। মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের ঘাটতি রয়েছে দেশে। দ্রুত রোগীদের অক্সিজেন সাপ্লাই করার জন্য এই জাতীয় ভেন্টিলেটর বানাতে এগিয়ে এসেছেন আইআইটি, এমআইটির ইঞ্জিনিয়াররা। আইআইটি কানপুরের পড়ুয়ারা ইতিমধ্যেই ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ তৈরি করে ফেলেছেন। কৃত্রিম মানব ফুসফুস তৈরি করে ভেন্টিলেটরের পরীক্ষা চলছে। এক একটা মেশিন তৈরিতে লাগে ১৫০-২০০ পার্টস, সেই সব সাপ্লাই দিচ্ছেন এমআইটির পড়ুয়া, তরুণ ইঞ্জিনিয়াররা। কীভাবে দ্রুত মেশিন বানাতে হবে ভিডিও কনফারেন্সে তার পরামর্শ দিচ্ছেন আইআইটি-প্রাক্তনী গুগল কর্তা সুন্দর পিচাই। তাঁর পরামর্শ মতোই কাজ চলছে জোরকদমে। আগামী মে মাসের মধ্যেই অন্তত ৩০ হাজার ভেন্টিলেটর পৌঁছে দেওয়া হবে দেশের নানা প্রান্তে।
ডাক্তার পদ্মনাভন বলেছেন, কাজ চলবে এর পরেও। যত বেশি সম্ভব ভেন্টিলেটর বানিয়ে রাখা হবে। আপৎকালীন অবস্থার জন্য আর কী কী জরুরি চিকিৎসার সরঞ্জাম লাগবে, সব তৈরি করবেন এই তরুণ ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানীরা।