দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংক্রামক জীবাণু এই মাস্কের সংস্পর্শে এলেই তার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা হারাবে। ভাইরাল প্রোটিনগুলো অকেজো (Nutralize) হতে থাকবে। এমন অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদানে তৈরি বিশেষ রকম সার্জিক্যাল মাস্ক বানাচ্ছে কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। এই প্রজেক্টে আইআইটি কানপুরের পাশে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ বোর্ড (SERB)।
অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল সার্জিক্যাল-মাস্কের এই প্রজেক্টে রয়েছেন কানপুর আইআইটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক, গবেষক তরুণ গুপ্ত, অধ্যাপক জে রাজকুমার, অধ্যাপক সৌমেন গুহ ও আইআইটি প্রাক্তনী সন্দীপ পটেল।
অধ্যাপক তরুণ গুপ্ত বলেছেন, “এন৯৫ মাস্কের থেকেও বেশি কার্যকরি হবে এই অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল কোটিং মাস্ক। কারণ এর অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান ভাইরাস শুধু আটকাবেই না, তাকে অকেজোও করে দেবে। যার কারণে সংক্রমণ শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমবে।” করোনাভাইরাসের স্ট্রেন সার্স-কভ-২ এয়ারবোর্ন কিনা সেটা এখনও প্রমাণিত নয়, তবে রেসপিরেটারি ড্রপলেটে (হাঁচি-কাশি-থুতু-লালাকে আধার বানিয়ে ভাইরাস বাহিত হতে পারে) ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। তবে এই ভাইরাল স্ট্রেন যে বাতাসে কয়েক ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে সেটা দাবি করেছেন অনেক বিজ্ঞানীই। অধ্যাপক গুপ্ত বলেছেন, করোনার মতো যে কোনও সংক্রামক জীবাণুকেই রুখে দিয়ে তার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা নষ্ট করতে পারে এই সার্জিক্যাল-মাস্ক।
https://twitter.com/Ashutos61/status/1246456598605656064
কীভাবে কাজ করবে এই অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল সার্জিক্যাল-মাস্ক?
কানপুর আইআইটির গবেষকদের কথায়, এই মাস্কের উপরে ৩-৪ টি কোটিং মেটিরিয়াল আছে। এই মেটিরিয়াল অ্যান্টি-ভাইরাল কম্পাউন্ড বা উপাদানে তৈরি। সাধারণত এই কোটিং তৈরি করতে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল পলিমার ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষক তরুণ গুপ্ত। তাছাড়াও সংক্রামক জীবাণু-প্রতিরোধী কিছু ড্রাগের মিশ্রণও রয়েছে।
এবার ভাইরাল স্ট্রেন এই মাস্কের সংস্পর্শে এলে অ্যান্টি-পলিমার কোটিং উপাদানের গায়ে আটকে যাবে। তখন পলিমারের কাজ হবে ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। ভাইরাস প্রতিরোধী ড্রাগ
(Virucidal Drugs) অর্গানিক সলভেন্ট যেমন ইথানলে দ্রবীভূত করে কোটিং করা থাকবে মাস্কের গায়ে। ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন এই ড্রাগ ও পলিমার কোটিংয়ের সংস্পর্শে এলেই নষ্ট হতে শুরু করবে। কাজেই শরীরে ভাইরাস ঢোকার আর কোনও উপায়ই থাকবে না। গবেষকরা বলছেন, ভাইরাসকে আটকাবে তো বটেই, নষ্টও করে দিতে পারবে এই অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ফেস-মাস্ক।

কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব আশুতোষ শর্মা বলেছেন, “বাতাসে বেঁচে থাকতে (Aerosol) পারে এমন সংক্রামক জীবাণু, ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারবে এই মাস্ক। এর অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ফেব্রিক ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবে। মাস্ক ছাড়াও পিপিই ও অন্যান্য সংক্রমণ ঠেকানোর মতো উপকরণেও এই ধরনের কোটিং করার কথা ভাবা হচ্ছে।” এই মাস্ক বার বার ব্যবহার করা যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ডাক্তার, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী যাঁদের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করতে হচ্ছে তাঁদের জন্য এই মাস্ক বিশেষ উপযোগী বলে জানিয়েছেন কানপুর আইআইটির গবেষকরা। এই অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল মাস্ক উপযোগী সাধারণের জন্যও যাঁদের গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হয়, অথবা যাঁদের মেলামেশার ক্ষেত্রটা অনেক বড়। গবেষকরা বলেছেন, ল্যাবরেটরিতেই বানানো নানা রকম কম্পাউন্ড দিয়ে বার বার ট্রায়াল করে দেখা হয়েছে এই মাস্ক সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। গবেষণা এখনও চলছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে এমন মাস্ক বানিয়ে দ্রুত হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হবে। কম খরচে এমন অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল কোটিং মাস্ক যত তাড়াতাড়ি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।