বিচারপতির প্রশ্ন ছিল সোজাসাপটা, “সিসিটিভি বসানোর জন্য রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছিল। ১৭.৪১ কোটি টাকার দরকার ছিল। অথচ এতদিন পেরিয়ে গেল, টাকাই দেওয়া হয়নি কেন?”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 11 September 2025 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধের পর বৃহস্পতিবার। হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে ফের ভার্চুয়াল শুনানিতে হাজির রাজ্যের মুখ্যসচিব (Chief Secretary)। আর সেখানেই রাজ্যের জেল এবং নিম্ন আদালতগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় রাজ্য প্রশাসনকে কার্যত তীব্র ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।
বিচারপতির প্রশ্ন ছিল সোজাসাপটা, “সিসিটিভি বসানোর জন্য রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছিল। ১৭.৪১ কোটি টাকার দরকার ছিল। অথচ এতদিন পেরিয়ে গেল, টাকাই দেওয়া হয়নি কেন?”
এদিন সওয়াল জবাবে মুখ্যসচিব আদালতকে বলেন, “১০ কোটি টাকা আজই ছাড়ছি। বাকিটা পরে...”, তার পাল্টা বিচারপতির তির্যক প্রশ্ন— “গত ডিসেম্বরে নির্দেশ গিয়েছে, এখনও বাস্তবায়ন হল না কেন?”
এরপর একের পর এক প্রশ্নবাণ রাজ্যের দিকে ধেয়ে আসে: “শেষ কবে মুখ্য বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছিলেন?”, “আপনি জানেন হাইকোর্টে কার্টিজ নেই?”, “পেপারলেস কোর্ট চলছে জানেন?”, “আইন বলে আদালত চালানোর খরচ রাজ্যকেই দিতে হবে, সেখানে কী চলছে এ রাজ্যে?”
এখানেই থামেনি আদালতের ক্ষোভ। বিচারপতির মন্তব্য— “জেলা আদালত, হাইকোর্ট— সর্বত্র প্রকল্প থমকে। সিসিটিভি-র অর্ডারও ডিসেম্বর থেকে ঝুলে আছে। এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। বিষয়টা গুরুতর হয়ে যাচ্ছে।”
মুখ্যসচিব নিজে বলেন, “২৯ অগস্ট থেকে বাইরে আছি, সব জেনেই বলছি।” তবু ক্ষান্ত হয়নি আদালত। উল্টে ক্ষুব্ধ বিচারপতির কড়া বার্তা: “এটা ১০ বা ১৭ কোটির প্রশ্ন নয়। হাইকোর্টের সঙ্গে যোগাযোগকারী অফিসারদের চিহ্নিত করুন। আজ সন্ধ্যার মধ্যেই সব পুরনো ফাইল ফেরত পাঠান। জুডিশিয়াল সেক্রেটারির থেকে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের যাবতীয় চাহিদার তালিকা তুলে নিন।”
এ ব্যাপারে আইনজীবীদের অভিযোগ: ৫৫টি প্রকল্প ঝুলে রয়েছে, যার মধ্যে বহু বিল্ডিং নির্মাণও রয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বহু আগেই, এখনও কিছু হয়নি। যা শুনে এক পর্যায়ে বিচারপতির রসিকতা— “এই অবস্থায় কেউ অসুস্থ হবেন না দয়া করে, হেলথ সেন্টার তো নেই!”
এরপরই রাজ্যকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আদালত জানায়, ১৭ সেপ্টেম্বর, দুপুর ৩টেয় মুখ্যসচিবকে আদালতে রিপোর্ট পেশ করতেই হবে— যাবতীয় তথ্য, অগ্রগতি এবং ফান্ড বরাদ্দের হিসেব-সহ। বিচারপতি এও বলেন, ‘বাকি নয়, কাজ চাই। আদালতের প্রাপ্য যেন আদালত পায়।’