পুজোর কার্যক্রমে প্রতিবেশীরাও অংশ নেন এবং এই অভিনব উদ্যোগকে সাদরে স্বাগত জানান। একরত্তি কন্যাকে ঘরের ছোট্ট লক্ষ্মী রূপে আরাধনার মাধ্যমে শিক্ষক দম্পতি সমাজে শিশু ও নারী নিরাপত্তার একটি বার্তা তুলে ধরেছেন

অভিনব উদ্যোগ নদিয়ার দম্পতির
শেষ আপডেট: 7 October 2025 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো (Lakshmi Puja) হয়েছে। তবে এবছর নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের নাঘাটার একটি পরিবারের পুজো এবার কিছুটা আলাদা। পরিবারের একমাত্র কন্যাকে ঘরের ছোট্ট লক্ষ্মী রূপে সাজিয়ে পুজোর আয়োজন করা হয় (Couple Celebrates Daughter as Goddess Lakshmi)। তবে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন কেবল উৎসব উদযাপনের জন্য নয়। পরিবারটি চায়, সমাজে শিশু নির্যাতন ও নারী ধর্ষণের মতো অমানবিক ঘটনা বন্ধ হোক (Child safety awareness)।
নাঘাটার ভাজনঘাট হাইস্কুলের শিক্ষক অর্জুন বাগচী এবং তাঁর স্ত্রী ঝুমা বাগচী তাঁদের ছয় বছরের কন্যা সন্তান অরিত্রিকাকে লক্ষ্মী রূপে পুজো করছেন। তাঁদের কথায়, মেয়েকে ঘরের ছোট্ট লক্ষ্মী হিসেবে আরাধনা করা মানে পরিবার থেকে সমাজের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠানো। দেশের নানা প্রান্তে ঘটে চলা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা দেখে উদ্বিগ্ন তাঁরা। এই উদ্যোগে পরিবার চাইছে, মানুষ বুঝুক প্রতিটি মেয়ে সন্তানই সুরক্ষিত ও সম্মানিত হওয়া প্রাপ্য।
পুজোর সময় অরিত্রিকাকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ে একজন পুরোহিত আসেন এবং ৬ বছরের মেয়েকে ছোট্ট লক্ষ্মী রূপে পূজা করা হয়। শিক্ষক দম্পতি মনে করেন, কন্যাকে ভগবান বা মাতৃশক্তির প্রতীক হিসেবে আরাধনা করা হলে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি হবে। অরিত্রিকার জন্মের পর থেকে পরিবারের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
অর্জুনবাবু আরও বলেন, গ্রামবাংলার বহু জায়গায় এখনও মেয়েদের পিছনের সারিতে রাখা হয় বা তাদের সম্ভাবনার প্রতি অবজ্ঞা দেখানো হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবারটি চাইছে, সমাজে মেয়েদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠুক।
এদিন পুজোর কার্যক্রমে প্রতিবেশীরাও অংশ নেন এবং এই অভিনব উদ্যোগকে সাদরে স্বাগত জানান। একরত্তি কন্যাকে ঘরের ছোট্ট লক্ষ্মী রূপে আরাধনার মাধ্যমে শিক্ষক দম্পতি সমাজে শিশু ও নারী নিরাপত্তার একটি বার্তা তুলে ধরেছেন, যা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।