এই পরিবারের পুজোর ইতিহাসও বেশ পুরনো। দু’শো বছরেরও আগে গ্রামে কোনও দুর্গাপুজো ছিল না। তখন ভৈরব ভট্টাচার্য এই পুজোর সূচনা করেন। পরে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এই ঐতিহ্য চালিয়ে আসছে।

ছবি- সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 2 October 2025 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁকুড়ার শালতোড়া গ্রামে দুর্গাপুজো (DURGAPUJA 2025) মানেই অন্য রকম আবেগ। এখানকার বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে মা দুর্গাকে সাজানো হয় সোনার গয়না দিয়ে। শুধু তাই নয়, মহাদশমীর পরেও মা এখানে থেকে যান। লক্ষ্মী পুজোর (Lakshmi Puja) পরই বিসর্জন হয় দেবীর। তাই কয়েকদিন বাড়তি আনন্দে মেতে ওঠেন গ্রামের মানুষ।
এই পুজোয় ভোগের (Durga Puja Bhog) আয়োজনও আলাদা। অষ্টমীতে খিচুড়ি আর পায়েস, নবমীতে পোলাও ও পনির- প্রতিদিনই বিশেষ ভোগ বিতরণ হয়। মহাদশমীর দিনে প্রায় ৫০০ মানুষের পাত পড়ে। সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া দাওয়া করেন। গ্রামের ব্রাহ্মণ পরিবার থেকে শুরু করে আশপাশের মানুষ- সকলেই এই ভোগের অংশীদার হন।
এই পরিবারের পুজোর ইতিহাসও বেশ পুরনো। দু’শো বছরেরও আগে গ্রামে কোনও দুর্গাপুজো ছিল না। তখন ভৈরব ভট্টাচার্য এই পুজোর সূচনা করেন। পরে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এই ঐতিহ্য চালিয়ে আসছে। প্রসঙ্গত, এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের আগের পদবীই ভট্টাচার্য ছিল, পুরনো নথি ঘাটলে আজও ভট্টাচার্যের উল্লেখ থাকবে। প্রথমে মাটির মন্দির ছিল, পরে দালান তৈরি হয়। ২০১৮ সালে নতুনভাবে মন্দির গড়া হয়, আর এ বছর তা আবার সংস্কার করা হয়েছে।
সন্ধিপুজোর সময়ও এখানে বিশেষ রীতি মানা হয়। দেবীর সাজানো ফুল মাটিতে পড়ে গেলে ধরে নেওয়া হয়, সেই বছর এলাকার ব্রাহ্মণ পরিবারের ভালো-মন্দ কেমন যাবে। তাই ছোট-বড় সবারই সেই মুহূর্ত নিয়ে ভীষণ আগ্রহ থাকে। গ্রামের কিশোর-কিশোরীরাও উপবাস থেকে সন্ধিপুজো পর্যন্ত অপেক্ষা করে।
এই পরিবারের প্রবীণ সদস্য ৮৭ বছরের অমিয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমাদের কাছে মা একেবারে মেয়ের মতো। তাই আমরা তাঁকে সোনার গয়না দিয়ে সাজাই। দশমীর পরেও মা আমাদের সঙ্গেই থাকেন।' আজও কর্মসূত্রে যাঁরা দূরে থাকেন, তাঁরাও সপ্তমীর আগেই গ্রামে ফিরে আসেন। দুর্গাপুজো শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা গ্রামকেই এক সুতোয় বেঁধে রাখে।