অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই থমকে রয়েছে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 21 January 2026 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে (National Security) গুরুতর উদ্বেগের ছবি তুলে ধরল কেন্দ্র (Central Government)। সীমান্তে এখনও প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিং হয়নি, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই পড়ছে ২ হাজার ২১৬.৭০ কিলোমিটার (2200 km of barbed)! এমনই তথ্য তুলে ধরে আদালতে সওয়াল করল কেন্দ্র।
অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই থমকে রয়েছে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ।
মামলার আবেদনকারীর আইনজীবী অজয়কৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় জানান, সীমান্তে ফেন্সিং করতে গেলে জমি অধিগ্রহণ অপরিহার্য। তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হলেও রাজ্যের অনুমতি ছাড়া জমি অধিগ্রহণ সম্ভব নয়। সেই অনুমতিই দিচ্ছে না রাজ্য।
আদালতে তাঁর বক্তব্য, “এটা শুধুই প্রশাসনিক বিষয় নয়, সরাসরি দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। সীমান্ত পেরিয়ে একের পর এক বাংলাদেশি বেআইনি ভাবে অনুপ্রবেশ করছে।”
আদালতে জানানো হয়, এখনও পর্যন্ত দেশের মোট ৪০৯৬.৭০ কিলোমিটার সীমান্তে ফেন্সিং বাকি। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলার বিস্তীর্ণ অংশ রয়েছে। এই এলাকাগুলি দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সোনা, গরু, মোষ এবং বিপুল অঙ্কের টাকা বেআইনি ভাবে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আইনজীবী অজয়কৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে আরও জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই সব সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একাধিক বার বিপুল পরিমাণ পাচারের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার পরেও রাজ্য সরকার ফেন্সিংয়ের কাজে সহযোগিতা করছে না। রাজ্যের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া চলার কারণে পর্যাপ্ত স্টাফ দেওয়া সম্ভব নয়।
কেন্দ্রের পক্ষে অশোক চক্রবর্তী বলেন, “এটা কেবল বেআইনি অনুপ্রবেশের বিষয় নয়, ক্রস বর্ডার টেরোরিজমের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।”
আদালতে তিনি জানান, ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এই সংক্রান্ত একটি নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ করছে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত।”
এই মামলায় এর আগে কেন্দ্রকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, সেই রিপোর্ট এখনও আদালতে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ করেন মামলার আবেদনকারী। শেষ পর্যন্ত আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামিকালই কেন্দ্রকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে, বাকি থাকা ফেন্সিংয়ের বিষয়ে তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে।
মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৭ জানুয়ারি। তার আগেই কেন্দ্রের রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে রাজ্য–কেন্দ্র টানাপড়েন তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।