জিটিএ (GTA) এলাকায় ৪৮৯ জন শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, বিধিভঙ্গ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 25 June 2025 20:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জিটিএ (GTA) এলাকায় ৪৮৯ জন শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, বিধিভঙ্গ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে আগেই কলকাতা হাইকোর্টে (Recruitment Corruption, Teacher, GTA, Calcutta High Court) দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা।
ওই মামলার শুনানিতে এদিন বিচারপতি জানতে চান, “নিয়োগ সংক্রান্ত নথি কোথায়? নিয়োগের প্রাথমিক নোটিফিকেশন কি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে?”
মামলাকারীর আইনজীবী শামিম আহমেদ দাবি করেন, রাজ্য সরকার এবং জিটিএ কর্তৃপক্ষের জমা দেওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। তিনি বলেন, “রাজ্যের জমা দেওয়া নথিতে ৩১৩ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ থাকলেও জিটিএ-র নথিতে তা অন্যরকম। ২০১০ এবং ২০১১ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে।”
তাঁর আরও অভিযোগ, নিয়োগে মানা হয়নি ১৯৯৩ সালের NCTE Act বা শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজনীয় নিয়ম। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবই নিয়োগের একমাত্র কারণ বলে দাবি শামিমের। মামলাকারীদের অপর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, “২০১৭ সালে একবারে ২৯২ জন এবং পরে আরও ৩০৯ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। এ যেন মুড়ি-মুড়কির মতো নিয়োগ।”
যদিও রাজ্যের আইনজীবী জয়দীপ কর পাল্টা সওয়ালে দাবি করেন, “২০১৭ সালের NCTE নোটিফিকেশন অনুযায়ী নিয়োগে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। ROPA Rule 2019 এবং RTE Act-এর নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগ বাতিল হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।” অন্যদিকে, আইনজীবী বিশ্বরূপ বলেন, “অনেক প্রার্থীর ডিগ্রি আগে থেকেই ছিল। তাঁদের নিয়ম মেনেই নিয়োগ করা হয়েছে।”
মামলার শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “নিয়ম মেনে নিয়োগ হয়নি, তা স্পষ্ট।রাজ্য এবং জিটিএ-র অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই নিয়োগপ্রাপ্তদের পাশে রাজ্য আছে কি না, তা জানানো হোক।” আদালত নির্দেশ দেয়, ৪৮৯ জন শিক্ষকের নিয়োগের বৈধতা খতিয়ে দেখা হবে।
এ ব্যাপারে নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিয়ম সংক্রান্ত সমস্ত নথি আগামী তিন দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে রাজ্য এবং জিটিএ-কে। পরবর্তী শুনানি বুধবার। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সেই সময়ই পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে।