ভারতে দুই প্রজাতির বাদুড়ের মধ্যে মিলল করোনাভাইরাস, গবেষণার রিপোর্টে বলল আইসিএমআর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেল করোনাভাইরাসের বাহক বাদুড় হতে পারে এমন আভাস আগেই দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সাম্প্রতিক গবেষণার রিপোর্ট বলছে, ভারতের দুই প্রজাতির বাদুড়ের মধ্যে বিটা-করোনাভাইরাসের প্রাণঘাত
শেষ আপডেট: 13 April 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেল করোনাভাইরাসের বাহক বাদুড় হতে পারে এমন আভাস আগেই দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সাম্প্রতিক গবেষণার রিপোর্ট বলছে, ভারতের দুই প্রজাতির বাদুড়ের মধ্যে বিটা-করোনাভাইরাসের প্রাণঘাতী ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছে। ইন্ডিয়ান ফ্লাইং ফক্স এবং ফল খাওয়া বাদুড়ের (Rousttus)শরীরে পাওয়া গেছে এই আরএনএ ভাইরাসের খোঁজ।
এই মারণ ভাইরাসের উৎসের কারণ বাদুড় হতে পারে কিনা সেই নিয়ে যৌথভাবে গবেষণা চালাচ্ছিল আইসিএমআর ও পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি)। গবেষকরা বলছেন, কেরল, তামিলনাড়ু, হিমাচলপ্রদেশ ও পুদুচেরীর নানা জায়গা থেকে ওই দুই প্রজাতির বাদুড় সংগ্রহ করে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছিল। দুই প্রজাতিরই ২৫টি বাদুড়ের গলা থেকে পাওয়া নমুনার আরটি-পিসিআর (রিভার্স-ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন)পরীক্ষা করে ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছে। মনে করা হচ্ছে নয়া করোনাভাইরাসের Reservoir এই দুইপ্রজাতির বাদুড় হলেও হতে পারে। তবে এই বাদুড়ের থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ এখনই ছড়িয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। জার্নাল অব মেডিক্যাল রিসার্চে এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে।
আইসিএমআর-এনআইভি-র যৌথ গবেষণায় ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, পঞ্জাব, গুজরাট, ওড়িশা, তেলঙ্গানা, চণ্ডীগড় ও পুদুচেরী থেকে কয়েক প্রজাতির বাদুড়ের উপর পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয়। ইন্ডিয়ান ফ্লাইং ফস্কের ৫০৮টি স্যাম্পেল ও ফল খাওয়া বাদুড়দের থেকে ৭৮ টি স্যাম্পেল নিয়ে আরটি-পিসিআর টেস্ট করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইন্ডিয়ান ফ্লাইং ফক্সের চারটি স্যাম্পেল ও ফল খাওয়া বাদুড়দের ২১টি স্যাম্পেলের মধ্যে ব্যাট-কভ (BtCov-যা আসলে বিটা-করোনারই স্ট্রেন) স্ট্রেন পাওয়া যায়।
২০০১ সালে নিপা ভাইরাস মাথাচাড়া দিয়েছিল ভারতে। সংক্রামিত ৬৬, মৃত্যু কম করেও ৪৫। সেই সময় আইসিএমআর-এনআইভির রিপোর্ট বলেছিল ফল খাওয়া বাদুড়রাই এই ভাইরাসের বাহক। ২০০২ সালে সার্স ভাইরাসের সংক্রমণের সময়েও বাহক হিসেবে বাদুড়ের নামই করা হয়েছিল। যেহেতু সার্স ভাইরাসের পরিবারেরই সদস্য এই সার্স-কভ-২, তাই এই ভাইরাসের বাহক বা Reservoir হিসেবে বাদুড়কেই সন্দেহ করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৬৬ রকম ভাইরাসের বাহক হল বাদুড়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) এমনই অদ্ভুত যেখানে ভাইরাসরা নানাভাবে নিজেদের বিস্তার ঘটাতে পারে। লক্ষণহীন সংক্রমণ ঘটাতে পারে এমন ভাইরাসও নিশ্চিন্তে বেড়ে ওঠে বাদুড়ের শরীরে।