দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর ছেলে খুন হয়েছে যার হাতে, তাকেই জেল থেকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেন স্বয়ং মা!
আর্জেন্টিনার এই ঘটনায় চমকে গেছে প্রশাসনও। তাদের কাছে হঠাৎই এক মহিলার চিঠি আসে, যাতে তিনি এক জেল বন্দির সাময়িক মুক্তির আর্জি জানিয়েছেন। কিন্তু জানা যায়, সেই বন্দিই ওই মহিলার নিজের সন্তানের খুনি! তাহলে কেন এমন আর্জি? কারণ ওই মা চান না, তাঁর সন্তানের হত্যাকারী করোনা সংক্রমণে ভুগে মারা যাক।
করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার আপাতত অন্যতম দাওয়াই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। কিন্তু জেলের মতো একটি জনবহুল জায়গায় তা কার্যত অসম্ভব। বহু দেশেই এই পরিস্থিতির বিচার করে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে জেল থেকে সাময়িক ভাবে। চিলির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রসংঘের হিউম্যান রাইটস হাই কমিশনার মিশেল বাচেলেট লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনার কারাগারের স্যানিটাইজেশনের অবস্থাকে ইতিমধ্যেই বর্ণনা করেছেন রীতিমতো শোচনীয় বলে। পাশাপাশি তিনি কম বিপজ্জনক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন।
মহামারীর কারণে চিলি এবং কলম্বিয়া হাজার হাজার বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইতিমধ্যেই। বন্দিদের মুক্তির দাবিতে প্রায় দাঙ্গাও বেধে যায় আর্জেন্টিনার ভিল্লা ডেভোটো জেলে।

সাংবাদিক আলেজো হুনাউ-এর হত্যাকারী এই জেলেই বন্দি আছেন ১৬ বছরের কারাবাসের সাজা পেয়ে। আলেজোর মা জানান, তিনি চান না খুনি কোনও রোগে ভুগে মারা যাক। তার মৃত্যু নয়, শাস্তিই চান তিনি। এর পরে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি অ্যালবার্টো ফার্নান্ডেজ় জেলবন্দিদের সাময়িক মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেন।
একটি প্রেস বিবৃতিতে তিনি জানান, অনেক ভাবনাচিন্তা করেই তিনি এই সিদ্ধান্তে এসেছেন।
জানা গেছে, ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত মিসেস ওন্টিভেরো নিজে দেশের সামরিক স্বৈরশাসনের সময়ে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে কারাবাস করেছিলেন। তাই জেলের পরিস্থিতি খুব ভাল করে জানেন তিনি। তাঁর ছেলে পেশায় ছিলেন সাংবাদিক ও সরকারি উপদেষ্টা। ২০০৪ সালে ডিয়েগো আরডুইনো নামের এক যুবক তাঁকে মদের বোতল দিয়ে মেরে খুন করে। তার পরে ধরা পড়ে জেলে যায় সে।

ওন্টিভেরো বলেন, গোটা দুনিয়ার পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। মহামারীর কবলে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে তিনি চান না, অসুখে ভুগে কারও মৃত্যু হোক। প্রসঙ্গত, ডিয়েগো আরডুইনো নামের ওই খুনির তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে। তাই এই সময়ে তার অতিরিক্ত সাবধানতার প্রয়োজন।
আলেজোর মা জানান, তিনি বরাবরই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী, তিনি শাস্তিতে বিশ্বাস রাখেন। অপরাধীকে এই সময় জেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দেওয়া, তা কখনই চান না তিনি।