যাঁদের সাংবিধানিক পদেই বিশ্বভারতীর প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড়িয়ে, তাঁদেরই নাম দিয়ে ‘ছাড়ের তালিকা’ প্রকাশ, এই নিয়েই ক্ষোভ দানা বাঁধছে আশ্রমিক মহলে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 29 January 2026 20:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বভারতীতে নজিরবিহীন বিতর্ক। রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি—দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নাম জুড়ে দিয়ে ‘বিনামূল্যে প্রবেশ’-এর বিজ্ঞপ্তি জারি করল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ (Controversy surrounds Visva-Bharati's notification allowing 'free entry' to President, Prime Minister)। আর তাতেই প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কর্মসচিব।
বিশ্বভারতীর কর্মসচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোট ১০৬ জন পদাধিকারী রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা ও বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে বিনা টিকিটে প্রবেশ করতে পারবেন। তালিকায় রয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক ভিভিআইপি। উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের অনুমতিক্রমেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি আদৌ জারি করা যায় কি? যাঁরা সংবিধানিক নিয়মে বিশ্বভারতীর সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য আবার ‘অনুমতি’ বা ‘বিনামূল্যে প্রবেশ’-এর কথা লিখে বিজ্ঞপ্তি জারি করা কি অবমাননাকর নয়?
বিশ্বভারতী অ্যাক্ট (১৯৫১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পরিদর্শক’, প্রধানমন্ত্রী ‘আচার্য’ এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ‘প্রধান’। অর্থাৎ, যাঁদের হাত ধরেই বা যাঁদের সাংবিধানিক পদেই বিশ্বভারতীর প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড়িয়ে, তাঁদেরই নাম দিয়ে ‘ছাড়ের তালিকা’ প্রকাশ—এই নিয়েই ক্ষোভ দানা বাঁধছে আশ্রমিক মহলে।

উল্লেখ্য, রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা দেখতে বরাবরই টিকিট লাগে। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেসকোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ তকমা পাওয়ার পর সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘হেরিটেজ ওয়াক’। নির্দিষ্ট সময়ে টিকিট কেটে পর্যটকেরা ক্যাম্পাস ঘুরে দেখছেন। সেই আবহেই এই বিজ্ঞপ্তি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ অবশ্য বিতর্ক উড়িয়ে বলেছেন, “এটা সংবিধানের মধ্যেই পড়ে। ভিভিআইপিদের বিনামূল্যে প্রবেশের বিষয়টি স্পষ্ট করতেই বিজ্ঞপ্তি।”
তবে আশ্রমিকদের একাংশ তা মানতে নারাজ। প্রবীণ আশ্রমিক ও ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুরের মন্তব্য, “সংবিধানপ্রধানদের প্রবেশে কোথাও বাধা থাকে না। এই বিজ্ঞপ্তি তাঁদের জন্যই অপমানজনক।” অপর আশ্রমিক সুব্রত সেন মজুমদারের কথায়, “অতীতে এমন বিজ্ঞপ্তি দেখিনি। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর নাম লিখে ছাড়ের কথা বলা অত্যন্ত অশোভন।”
শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার আরও কড়া ভাষায় বলেন, “রাষ্ট্রপতি বিশ্বভারতীর পরিদর্শক, প্রধানমন্ত্রী আচার্য। তাঁদের বিনামূল্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার উপাচার্য কে? এই বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণ অসম্মানজনক।”