কলকাতায় থাকার সময় রাজ্য, জেলা ও মণ্ডল স্তরের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না দলীয় সূত্র।
.jpeg.webp)
অমিত শাহ।
শেষ আপডেট: 29 January 2026 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও জনসভা নয়, মঞ্চও নেই। তবু রাজ্য রাজনীতিতে ফের বাড়ছে উত্তাপ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) আবার পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal)। শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছনোর কথা তাঁর। তবে এবারের সফর প্রকাশ্য কর্মসূচিহীন, পুরোপুরি সাংগঠনিক (Silent preparations before the elections)।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, “দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক রয়েছে। একটি বারাসতে, অন্যটি শিলিগুড়িতে।”
দলীয় সূত্রের খবর, শনিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বারাসতের বৈঠকটি হওয়ার কথা ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী খেলার মাঠে। সাংগঠনিক ওই বৈঠক সেরে দুপুরের বিমানে বাগডোগরা যাওয়ার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বিমানবন্দর সংলগ্ন গোঁসাইপাড়ার মাঠে সাংগঠনিক বৈঠক সেরে সেখান থেকেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই বৈঠকগুলিতে দলের রণকৌশল নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।
শাহের সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপর প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ব্যারাকপুর আনন্দপুরী মাঠ পরিদর্শনে যান পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে মাঠে হাজির হন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “কার্যকর্তাদের মনোবল বাড়াতে অমিত শাহ মাঝেমধ্যেই আসেন।”
রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক বা মার্চের শুরুতেই বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে বলে জল্পনা। তার আগেই সংগঠনের ভিত শক্ত করা, দুর্বল অঞ্চল চিহ্নিত করা এবং রাজ্য থেকে মণ্ডল স্তর পর্যন্ত নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় ফেরানো, এই তিন লক্ষ্যেই শাহের সফর।
কলকাতায় থাকার সময় রাজ্য, জেলা ও মণ্ডল স্তরের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না দলীয় সূত্র। কে কোথায় দায়িত্ব নেবেন, কার উপর ভরসা বাড়বে, প্রচারের ভাষা ও কৌশল কী হবে— এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে এই নীরব বৈঠক থেকেই।
এর পাশাপাশি রয়েছে সময়ের হিসেবও। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তখন রাজ্যজুড়ে সভা-মিছিল ও মাইক ব্যবহারে কড়া বিধিনিষেধ কার্যকর থাকে। ফলে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে গেলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা। তাই জানুয়ারির মধ্যেই রাজ্য সফর সেরে নেওয়াকে ‘কৌশলগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবেই দেখছে বিজেপির অন্দরমহল।
সুকান্ত মজুমদারের ইঙ্গিত, বারাসতের বৈঠকের পর অমিত শাহ উত্তরবঙ্গ সফরেও যেতে পারেন। বিজেপির কাছে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করাই লক্ষ্য।
দলীয় সূত্র মানছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য বিজেপিতে নেতৃত্ব ও সংগঠনের মধ্যে কিছু জায়গায় অসংগতি তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে সেই ফাঁকফোকর মেরামত, অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ফেরানোই অমিত শাহের এই ‘নীরব সফর’-এর মূল উদ্দেশ্য।