সূত্রের দাবি, আরও একাধিক তরুণী রাজ্য কমিটির ওই সদস্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 December 2025 20:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলাঘটিত অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছেই না সিপিএম নেতাদের (CPM)। দলের এক পার্টিসদস্যার অভিযোগের তদন্তের পর এ বার কড়া পদক্ষেপ করল সিপিএম। বহিষ্কার করা হল রাজ্য কমিটির সদস্য ইন্দ্রজিৎ ঘোষকে (state committee leader Indrajit Gupta expelled)। শুক্রবার দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকের শেষ দিনে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সূত্রের খবর, বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাননি সেলিম। শুধু জানিয়ে দেন, দলের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (আইসিসি)-র সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ইন্দ্র যেহেতু রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দিল্লিতে সিপিএমের আইসিসির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় আইসিসিও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে বলে খবর।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, যে সময় এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়, তখন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত নেতাও। বহিষ্কারের পরে প্রকাশ্যে বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি ইন্দ্রজিৎ। তবে সূত্রের দাবি, অনুযোগের সুরে তিনি বলার চেষ্টা করেন, তাঁর বক্তব্য সে ভাবে শোনা হয়নি। আইসিসি তাঁকে মাত্র এক বারই ডেকে কথা বলেছিল বলে তাঁর অভিযোগ। যদিও রাজ্য কমিটিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নেতারাও এ দিন বিশেষ সরব হননি।
বেলঘরিয়ার এক তরুণী সিপিএম কর্মীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সহবাস করেছিলেন ওই নেতা। ঘটনাচক্রে অভিযোগকারিণীর মা ও বাবা দু’জনেই সিপিএমের সদস্য। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্ত কমিটি যে শুধু একটি ঘটনায় থেমে থাকেনি, তা-ই স্পষ্ট। সূত্রের দাবি, আরও একাধিক তরুণী রাজ্য কমিটির ওই সদস্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ভাঙড়ের ভূমিপুত্র হলেও ইন্দ্রজিৎ ঘোষের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক। এসএফআই ও ডিওয়াইএফআইয়ের হাত ধরে রাজনীতিতে উঠে এসে তিনি পরে সিটুর নেতা হন। বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনে সিপিএমের ‘মুখ’ হিসেবেই তাঁকে সামনে দেখা যেত। অভিযোগ, সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গেও বিভিন্ন ভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।
গত এপ্রিল মাসে তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে সিপিএমের পার্টি কংগ্রেস চলাকালীন এক তরুণী ইন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ স্ক্রিনশট-সহ প্রকাশ্যে আনেন। যদিও তার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। বেলঘরিয়ার মূল অভিযোগকারিণী এক সময়ে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলেও সূত্রের খবর।
পরিসংখ্যান বলছে, গত দেড় বছরে মহিলাঘটিত অভিযোগে চার জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল সিপিএম। প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষকে জেলা সম্পাদক পদ থেকে সরানো এবং পরে রাজ্য কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। উত্তর দমদমের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যকে ছ’মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরীকেও বহিষ্কারের পথে হাঁটে সেলিমের নেতৃত্বাধীন দল। ২০২৫ শেষ হওয়ার আগেই সেই তালিকায় যুক্ত হল ইন্দ্রজিৎ ঘোষের নাম।
দলের অন্দরেই মত, রাজ্য কমিটির এই সিদ্ধান্তের পরে চাপ বাড়তে পারে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের উপর। কারণ, এই দুই জেলাতেও একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মহিলাঘটিত অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে।